লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের নিয়ম, খরচ | Lithuania student visa application

লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা

আসসালামু আলাইকুম। আপনাদের মধ্যে অনেকেই জানতে চেয়েছেন লিথুনিয়ায় শিক্ষার মান কেমন, লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের নিয়ম, লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা খরব নিয়ে বিস্তারিত একটা পোষ্ট যেনো আমরা দেই। আজকে আমরা দেখবো লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত। আশা করি আজকের পোষ্ট পড়ার পর লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে আর কোন প্রশ্ন থাকবে না ইনশা আল্লাহ। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

লিথুনিয়া কেমন দেশ?

যেকোন দেশে পড়তে যাওয়ার আগে বা কাজে যাওয়ার আগে আপনার ওই দেশ নিয়ে ভালো একটা আইডিয়া নেয়া উচিৎ। যেহেতু আমরা আজকে লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে আলোচনা করবো তাই চলুন আগে সংক্ষেপে লিথুনিয়া দেশ সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই।

লিথুনিয়া উত্তর পূর্ব ইউরোপের একটি উন্নত রাষ্ট্র। উত্তরের লাটভিয়া ও এস্তনিয়ার সাথে লিথুনিয়া ও একটি বালটিক রাষ্ট্র এবং তিনটি রাষ্ট্রে মধ্যে বৃহত্তর। তাছাড়া লিথুনিয়া ইউরোপের সেনজিনভুক্ত দেশ আবার একইসাথে লিথুনিয়া ন্যাটোর সদস্য। এর মাধ্যমেই কিছুটা আন্দাজ করা যায় অর্থনীতিকভাবে বা সামরিকভাবে লিথুনিয়া পিছিয়ে নেই। তো চলুন এবার দেখে নেয়া যাক লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত।

আরো পড়ুন: ইতালি ভিসার দাম কত? ইতালি ভিসা আবেদন 2022

লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা
ছবি: লিথুনিয়া [সংগৃহিত]

লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা: কেন আবেদন করবেন?

  1. লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে আবেদনের ক্ষেত্রে আপনার IELTS  এর প্রয়োজন নেই তবে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে।
  2. লিথুনিয়া ইইউ র সিনজিনভুক্ত দেশ। অর্থাৎ এই দেশের ভিসা পেলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর অন্যান্য দেশে ও বিনা ভিসায় ভিজিট করতে পারবেন। এটা খুব বড় একটা সুবিধা হতে পারে পড়ার পাশাপাশি পার্ট টাইম কাজের ক্ষেত্রে।
  3. লিথুনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের তুলনায় উন্নয়ন খুব দ্রুততার সাথে বেড়ে চলছে।
  4. ব্যাংক ফান্ড বেশি একটা দেখাতে হয় না।
  5. ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায় খুব সহজে।
  6. পড়াশুনার পাশাপাশি পার্ট টাইম কাজ পাওয়া খুব সহজ।
  7. পড়াশুনা শেষে ফুলটাইম কাজের সুযোগ রয়েছে।

আরো পড়ুন: ফিনল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা 2022 | ফিনল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের যোগ্যতা

লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা: কিভাবে আবেদন করবেন

লিথুনিয়া দেশ সম্পর্কে জানা হলো। এবং লিথুনিয়া কেনো আবেদন করবেন সেটা জানা হলো এখন চলুন দেখে নেয়া যাক লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের নিয়ম। অর্থাৎ আপনি যদি লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা র জন্য আবেদন করবেন ঠিক করেন তাহলে কিভাবে আবেদন করবেন তা বিস্তারিত জানবো এই পোষ্টে।

প্রথমে যেমনটা আমরা বলেছিলাম লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের জন্য IELTS  এর প্রয়োজন হয় না তবে ভালো কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে আবেদন করতে হলে আপনার IELTS এর প্রয়োজন পড়বে। লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে প্রথমেই আপনাকে আপনার কোর্স এবং ডিগ্রির ধরন সিলেক্ট করতে হবে। এরপর আপনার কাজ হলো বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করা। কোর্স সেলেকশন ও বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করার ক্ষত্রে আপনারা এই ওয়েব সাইট থেকে সাহায্য নিতে পারেন। ওয়েবসাইটে রিসার্চ এর মাধ্যমে আপনি নিয়ের জন্য বেষ্ট অউনিভার্সিটি সিলেক্ট করে সে হিসেবে প্রিপারেশন শুরু করতে পারেন। তবে আপনাদের সুবিধার্থে নিচে কিছু নাম করা ভালো ইউনিভার্সিটির লিস্ট দেয়া হলো।

  • Klaipėda University
  • Vilnius Gediminas Technical University
  • Vilnius Academy of Fine Arts
  • Šiauliai University
  • Mykolas Romeris University
  • Lithuanian University of Health Sciences
  • Lithuanian University of Educational Sciences
  • Kaunas University of Technology

লিথুনিয়ায় ও অন্যান্য দেশের মত বছরে দুই সেশনে স্টুডেন্ট ভর্তি করানো হয়। জানুয়ারিতে একবার আর সেপ্টেম্বরে একবার। তবে বাংলাদেশ থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে আপনাকে সেপ্টেম্বরে আবেদনের করা উচিৎ। তাহলে আপনার ভালো সাব্জেক্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

আরো পড়ুন: মালয়েশিয়া ভিসা কবে খুলবে? মালেশিয়া ভিসা প্রোসেসিং ও ওয়ার্ক পারমিট ভিসা 2022

আবেদনের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

প্রথমে আপনাকে আবেদনের জন্য সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ডাক যোগে বা অনলাইনে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। সব ঠিক থাকলে ৬-৭ দিনের মধ্যে আপনার কনফার্মমেশন মেইল আসবে। এরপর আপনাকে ১ বছরের টিউশন ফি অগ্রিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদত্ত নির্দিষ্ট একাউন্টে জমা করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন কারনে ভিসা কনফার্ম না হলে আপনি সম্পূর্ন টাকা ফেরত পাবেন। তবে এখানে এপ্লিকেশন ফি ১৫০ থেকে ২০০ ইউরো প্রদান করতে হবে, যা অফেরৎযোগ্য। এরপর টিউশন ফি জমা দেওয়ার পর তারা আপনাকে ৪/৫ দিনের মধ্যে অফার লেটার এবং ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস পাঠাবে।

লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের সকল কাগজপত্র লিথুয়ানিয়ার সেন্টার ফর কোয়ালিটি এসেসমেন্ট ইন হাইয়ার এডুকেশন (SKVC) থেকে রেকগনাইজ করাতে হবে। পূর্বে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের পূর্বেই করা হত কিন্তু ২০১৭ সাল থেকে প্রথমে আপনাকে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্লাই করতে হবে এবং সেখান থেকে পাওয়া কনডিশনাল অফার লেটার প্রুফ অফ পারপাস হিসেবে জমা দিতে হবে। এরপরই আপনি সকল ডকুমেন্টস রিকগনাইজ করানোর সু্যোগ পাবেন। আপনি সকল ডকুমেন্টস রিকগনাইজের জন্য বাংলাদেশ থেকে ই পাঠাতে পারেন। অথবা বিশ্ববিদ্যালয়কে জানালে তারা তাদের অফিশিয়াল ই-মেইল থেকে সকল ডকুমেন্টস SKVC-এ পাঠিয়ে দিবে। SKVC-এ এপ্লিকেশন ফর্মের লিঙ্ক ও সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাবার ঠিকানা নিচে দেওয়া হল:

  • ওয়েবসাইট: https://www.skvc.lt/default/en/60/apply/documentation_requirements
  • ইমেইল: enicnaric@skvc.lt

লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা: টিউশন ফি

ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের তুলনায় লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা য় পড়তে গেলে খরচ তুলনামূলক অনেক কম হয়। সাধারনত মাস্টার্স প্রোগ্রামের এর জন্য টোটাল আপনার খরচ হবে ৩০০০ থেকে ৩৫০০ ইউরোর মত। আর ব্যাচেলর প্রোগ্রামে মোট খরচ হতে পারে ১৫০০ থেকে ৪০০০ ইউরো। তবে যেমনটা আমরা আগেও বলেছি খরচ নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ালি ও স্কলারশীপ এর ধরনের উপর নির্ভর করে এই খরচ কুছুটা কম বেশি হতে পারে।

এছাড়া ভিসা পাওয়ার জন্য আপনার অবশ্যই আর্থিক সচ্চলতার প্রমান দিতে হবে। এক্ষত্রে লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা র জন্য আপনার ব্যাংক সলভেন্সি ৫-৭ লক্ষ টাকা দেখাতে হতে পারে। আর ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে গেলে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে হবে।

আরো পড়ুন: বৌমা একঘর আজকের পর্ব | বৌমা একঘর সিরিয়াল ডাউনলোড

লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা: মাসিক খরচ ও পার্ট টাইম জব

যেমনটা আমরা আগেও বলেছি লিথুনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য তাই আপনি এই ভিসা অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ গুলোয় খুব সহজে যাতায়াত করতে পারবেন যার কারনে আপনার পার্ট টাইম জব করা লিথুনিয়া অনেকটাই সহজ ও সহজলভ্য। সাধারনত পড়াশুনার পাশাপাশি আপনি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা ও সামার ভেকেশনে ফুলটাইম কাজের সুযোগ পাবেন।

লিথুনিয়া স্টুডেন্ট ভিসা: চাকুরি ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

লিথুনিয়ায় আপনি পড়াশুনা শেষ করার পর আপনি ৬ মাস সময় পাবেন চাকুরি খুজে নেয়ার। এই ৬ মাসের মধ্যে চাকুরি ব্যবস্থা হয়ে গেলে আপনাকে টানা ২ বছর চাকুরি করতে হবে TRP (Temporary Resident Permit) এর মাধ্যমে। এর পর আপনি স্থায়ীভাবে চাকুরির আবেদনের সুযোগ পাবেন। তাছাড়া আপনি যদি টানা ১০ বছর লিথুনিয়ায় থাকেন এরপর লিথুনিয়ার নাগরিকত্ত্বের জন্য আবেদন করতে পারেবেন।

একটা ব্যাপার আরেকবার বলা উচিৎ। লিথুনিয়া থেকে পড়াশুনা শেষ করার পর আপনি চাইলে ইউরোপের যেকোন দেশে ওই সার্টিফিকেট দেখিয়ে জব করতে পারবেন। যেহেতু লিথুনিয়া হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য।

আরো পড়ুন: পুরুষের মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর করার উপায়

শেষ কথা

আমাদের দেশে বর্তমানে এক দালাল চক্রের উদ্ভব হয়েছে যারা আপনাকে বিদেশে পড়ানোর কথা বলে টাকা খাওয়ার চিন্তা করে। কিন্তু বর্তমানে সব ই অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। তাই আপনি একটু সময় দিলে কোন রকম দালার এর হাত না ধরেই নিজে নিজের আবেদন করতে পারবেন খুব সহজে।

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Comment