অনলাইনে জামার ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে, ঘরে বসে কাপড়ের ব্যবসা

অনলাইনে জামার ব্যবসা

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে অনলাইনে বিভিন্ন রকম ব্যবসা করে স্বাবলম্বি হয়েছেন। বর্তমানে অনলাইনে যেসব ব্যবসা সবচেয়ে লাভজনক হয়ে উঠেছে তার মধ্যে অনলাইনে জামার ব্যবসা অন্যতম। অনলাইনে ছেলে ও মেয়ে উভয় এখন জামা কাপড় ক্রয় করে থাকে তবে ব্যবসা করতে চাইলে মেয়েদের ড্রেস নিয়ে কাজ করতে পারেন। কেননা অনলাইনে জামা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ছেলের চেয়ে মেয়ে ক্রেতার পরিমান বেশি।

অনলাইনে জামার ব্যবসা

 

আজকে আমরা কিভাবে অনলাইনে জামার ব্যবসা শুরু করবেন , ঘরে বসে কাপড়ের ব্যবসা কিভাবে করবেন এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি কিছুটা হলেও আপনাদের উপকারে আসবে।

অনলাইনে কাপড় ব্যবসার মাধ্যম

অনলাইনে জামার ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানার পূর্বে আমাদের জানতে হবে জামা বিক্রি করবেন কোথায়। বর্তমানে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সহ অনলাইন অনেক প্লাটফর্ম রয়েছে যেখানে নিজের তৈরি বিভিন্ন পোষাক অথবা রেডিমেড কাপড় বিক্রি করতে পারেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে

এখন সবথেকে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক মাধ্যম। এই মাধ্যমে খুব সহজেই অনলাইন ব্যবসা করা যায়। সে ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমেই একটি পেজ ক্রিয়েট করে নিতে হবে। পেজ ক্রিয়েট হয়ে যাওয়ার পর আপনার প্রোডাক্ট এর ছবি পেজে আপলোড করতে হবে। এবং প্রতিদিন বেশি বেশি পোস্ট করতে হবে।

এভাবে ফেসবুকে সবার সাথে জনপ্রিয় হয়ে উঠবেন সাথে সেল বৃদ্ধি পাবে এবং আস্তে আস্তে ব্যবসায় লাভবান হবেন। এছাড়াও ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নতুন নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে কাস্টমারদের আপডেট দিতে পারেন।

মার্কেটপ্লেস এর মাধ্যমে

মার্কেটপ্লেস হলো আরেকটি ফেসবুকের জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটিং সেবা। এই মাধ্যমেও আপনি আপনার প্রোডাক্টের ছবি তুলে মার্কেটপ্লেস এ আপলোড করে দিতে পারেন। যদি কোন কাস্টমারের আপনার প্রোডাক্টই ভাল লাগে তাহলে সে আপনার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে। এবং আপনার প্রোডাক্ট ক্রয় করবেন।

এভাবে মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে আপনারা আপনাদের সেল বৃদ্ধি করতে পারবেন। অনলাইনে জামার ব্যবসার জন্য এটা হতে পারে  আপনার জন্য অনেক ভালো একটা মাধ্যম।

ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে

অনলাইনে জামার ব্যবসা বা অন্য যে কোন ব্যবসার জন্য ইমেইল মার্কেটিং একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইমেইল মার্কেটিং এর ব্যাপারে এখনও সবাই ততটা বেশি সিরিয়াস না। কিন্তু বাইরের দেশগুলোতে ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে তারা অনেক লাভবান হচ্ছে। এটার পদ্ধতিটা একটু ভিন্ন এটা হল এমন একটা পদ্ধতি যা আপনার তারগেট কাস্টমারের কাছে আপনার পণ্যের

অর্থাৎ আপনি যে টাইপের বিজনেস করতেছেন।সেই টাইপের জিনিসের ছবি আপনি ইমেইলের মাধ্যমে পাঠাবেন। যদি কাস্টমারের এটা ভালো লাগে যে তার এই প্রোডাক্ট এখন লাগতেছে ।তখন অবশ্যই সে আপনার সাথে যোগাযোগ করবেন। অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য এটাও একটা খুব ভাল মাধ্যম বলা চলে।

হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে

হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিং ও ঠিক ইমেল মার্কেটিং এর মতই এখানেও আপনার টার্গেট কাস্টমারের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার গুলো হোয়াটসঅ্যাপে সেভ করে রাখবেন। যদি কাস্টমার এসে প্রোডাক্টই ভাল লাগে বা তার এখন সেই প্রোডাক্টটি লাগতেছে তাহলে সে অবশ্যই আপনার সাথে যোগাযোগ করবে এবং আপনার কাছ থেকে পণ্যটি ক্রয় করবে।

এভাবে হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আপনি আপনার প্রোডাক্ট অনায়াসে সেল করতে পারবেন। এটা অনলাইনের মাধ্যমে বিজনেস করার জন্য খুব ভালো একটি মাধ্যম।

ইউটিউব এর মাধ্যমে

ইউটিউব এর মাধ্যমে আপনি আপনার বিজনেস চালাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আপনি আপনার প্রোডাক্ট গুলো নিয়ে সুন্দরভাবে ভিডিওর মাধ্যমে সবার কাছে উপস্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ আপনার প্রডাক্টি কেমন আপনার প্রোডাক্টের গুণগতমান কেমন? একই প্রোডাক্ট অন্যগুলোর থেকে আপনার প্রোডাক্ট কেন কেনা জরুরি?

এগুলো বিষয় নিয়ে যদি আপনি ভালো ভাবে উপস্থাপন করতে পারেন এবং ইউটিউব এ আপলোড করে দেন । এবং যদি কোন কাস্টমারের সে প্রোডাক্ট এর চাহিদা থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার কাছ থেকে তিনি সেই প্রোডাক্টটি ক্রয় করবেন।

এ  মাধ্যম গুলোতে যদি আপনি সুন্দরভাবে বিজনেস আইডিয়া গুলো কাজে লাগিয়ে বিজনেস স্টার্ট করতে পারেন সেটা হতে পারে অনলাইনে জামার ব্যবসা, অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা, অনলাইনে জুতার ব্যবসা অথবা অন্য যে কোন ব্যবসা তাহলে আপনার সফলতা অবশ্যই আসবে।

অনলাইনে জামার ব্যবসার আইডিয়া

আপনি যদি খুব ভালো মানের কাপড় চিনতে পারেন। অর্থাৎ অনলাইনে জামার ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে অবশ্যই একটা জিনিস মাথায় নিয়ে আসতে হবে সেটা হচ্ছে যে কাপড়ের কোয়ালিটি। যদি আপনি ভালো মানের কাপড়ের কোয়ালিটি সহজে বুঝতে পারেন। তাহলে আপনার ব্যবসায় সফলতা হতে বেশি দেরি হবে না।

অর্থাৎ আপনি খুব সহজেই অনলাইনে জামার ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। কেননা আপনার যারা কাস্টমার থাকবেন তারা যখন আপনার কাছ থেকে একবার কোন প্রোডাক্ট বা জামা ক্রয় করবে। যখন তিনি দেখতে পাবেন যে জামাটি পডরে তার অনেক আরামদায়ক মনে হয়েছে অর্থাৎ কাপড়ের কোয়ালিটি অনেক ভাল ছিল।

তাহলে সে আবারও আপনার সাথে যোগাযোগ করবে যদি তার সেরকম প্রোডাক্ট আরো লাগে। তাই অনলাইনে জামার ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে এই বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে।

অনলাইনে জামার ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে

অনলাইনে জামার ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে অবশ্যই একটা উৎস খুঁজে নিতে হবে যেখান থেকে আপনি পাইকারি দামে জামা ক্রয় করবেন। যদি সে রকম উৎসের সন্ধান পেয়ে থাকেন তাহলে কাপড়ের মান অর্থাৎ কাপড়ের গুণগত মান যাচাই করে জামা ক্রয় করবেন। যেহেতু আপনি অনলাইনে জামার ব্যবসা ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন। আপনাকে অবশ্যই জামার গুণগত মান যাচাই করে নিতে হবে।

তাহলে আপনি কেবল একজন সফলকামী অনলাইন ব্যবসায়ী হতে পারবেন। আরেকটি বিষয় অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যে সেই প্রোডাক্ট এর চাহিদা কি রকম যদি প্রোডাক্ট এর চাহিদা খুব ভাল হয় তাহলে আপনি সেই প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে পারেন।

অন্যথায় আপনার লসের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

কয়েকটি বিষয় লক্ষ রাখলে আপনি অনলাইনে জামার ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন বিষয়গুলো হচ্ছে

কাপড়ের কোয়ালিটি সম্পর্কে জানতে হবে

যদি আপনি কাপড়ের কোয়ালিটি বা কাপড়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পারেন। তাহলে আপনি খুব সহজেই অনলাইনে জামার ব্যবসা করে সফলতা পাবেন। কেননা কাপড়ের কোয়ালিটির উপর নির্ভর করে আপনার কাস্টমার আপনার কাছ থেকে জামা ক্রয় করবে।

কাপড়ের চাহিদা সম্পর্কে জানতে হবে

আপনি যদি জানতে পারেন যে এখন কাস্টমার কোন ধরনের কাপড়ের উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে অথবা কোন কাপড়ের তার চাহিদা বেশি। এই সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে। একটা উদাহরণ দিচ্ছি মনে করেন আগে মানুষ বিয়ের সময় সিল্ক শাড়ি অথবা জর্জেট শাড়ি পড়তেন কিন্তু এখন বেশিরভাগ সময় দেখা যায় সবাই কাতান শাড়ি পরে বিয়ের সময়।

যেহেতু বর্তমান সময়ে মানুষ কাতান শাড়ি বিয়ের সময় পড়তেছেন তাহলে আপনাকে কাতান শাড়ির উপর ব্যবসা চালাতে হবে তাহলেই আপনি লাভবান হবেন।

জামার ডিজাইনের উপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে

আপনি যত বেশি আপডেট ডিজাইন দিতে পারবেন অর্থাৎ যত বেশি নতুন ডিজাইনের জামা বাজারে নিয়ে আসতে পারবেন আপনার সেল তত বেশি বাড়বে।

এই বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দিলে আপনার জামার ব্যবসায় সফলতা আসবে।

ঘরে বসে কাপড়ের ব্যবসা

চাকরি যেহেতু সোনার হরিণের মতো হয়ে গেছে। তাই সবাই চায় যে নিজে কিছু করতে বিশেষ করে মেয়েরা। অনেক মেয়েরাই আছে যারা বিয়ের পর তাদের স্বপ্ন থাকে নিজে কিছু করার পরিবারকে সাহায্য করার কিন্তু তারা সাংসারিক প্রতিবন্ধকতার কারণে চাকরি করাটা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনা।

এই পর্যায়ে ঘরে বসে যদি তারা কিছু করতে পারে। তাহলে নিজেই যেমন স্বাবলম্বী হতে পারবে এবং পরিবারকে সাহায্য করতে পারবে। তাই তারা চাইলে ঘরে বসে কাপড়ের ব্যবসা করতে পারে। এটা মেয়েদের জন্য একটা ভালো এবং লাভজনক ব্যবসা বলা চলে।

আরো পড়ুন – 

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Comment