অ্যান্ডোরা টুরিস্ট ভিসা
ছবি: অ্যান্ডোরা টুরিস্ট ভিসা

অ্যান্ডোরা টুরিস্ট ভিসা ২০২২ । অ্যান্ডোরা পর্যটন ভিসা আবেদনের নিয়ম ও খরচ

অ্যান্ডোরা টুরিস্ট ভিসা

অ্যান্ডোরা দক্ষিন পশ্চিম ইউরোপের একটি ক্ষুদ্র ও সুন্দর রাষ্ট্র। ইংরেজিতে Andorra লিখা হয় এবং বাংলায় অ্যান্ডোরা, আন্ডোরা বা আন্দোরা উচ্চারন করা হয়। ইউরোপের দেশ বরাবর ই পর্যটনের জন্য বিখ্যাত। অ্যান্ডোরা দেশ হিসেবে ছোট হলেও পর্যটন হচ্ছে দেশের অর্থনীতের চাবি কাঠি ও আয়ের প্রধান উতস। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেকেই অ্যান্ডোরার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখতে যান। আজকে আমারা মূলত আলোচনা করবো অ্যান্ডোরা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে। অ্যান্ডোরা ভ্রমন ভিসা আবেদনের নিয়ম ও খরচ নিয়ে বিস্তারিত জানাবো আজকের ব্লগে।

অ্যান্ডোরা টুরিস্ট ভিসা
ছবি: অ্যান্ডোরা টুরিস্ট ভিসা

অ্যান্ডোরা কেমন দেশ?

অ্যান্ডোরা আয়তনে ৪৬৮ বর্গ কিলোমিটার ও সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী অ্যান্ডোরা জনসংখ্যা প্রায় ৮৫ হাজার এর মত। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথীবির ক্ষুদ্র রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে একটি। তবে আয়তনে ছোট হলেও পর্যটন হচ্ছে দেশটির আয়ের প্রধান উতস। প্রতিবছর বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক মানুষ পর্যটনের উদ্দেশ্যে অ্যান্ডোরা পাড়ি জমায়। সরকারি হিসেব অনুযায়ী ২০২০ সালে করোনার মধ্যে ও প্রায় ১৫ হাজার বিদেশী পর্যটক এসেছিলো অ্যান্ডোরার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে। ছোট দেশ হলেও সবুজে ঘেরা বিস্তির্ণ বনভূমি ও পাহাড় এই দেশের প্রধান আকর্ষন।

আরো পড়ুন:  চায়না থেকে পণ্য আমদানি করার নিয়ম। চীন থেকে পণ্য আমদানী করার নিয়ম ও খরচ

অ্যান্ডোরা টুরিস্ট ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

অ্যান্ডোরা ভ্রমনের জন্য ইউরোপের অন্যান্য দেশের মত একই ডকুমেন্টস প্রয়োজন হবে। তারপর ও আপনাদের সুবিধার জন্য আবারো উল্লেখ করা হচ্ছে।

  • আপনার বৈধ পাসপোর্ট কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ থাকতে হবে।
  • যদি আপনি নতুন করে পাসপোর্ট করেন তাহলে আমাদের সাজেশন থাকবে অনলাইন পাসপোর্ট করুন। বর্তমানে অনলাইনে করা স্মার্ট পাসপোর্ট করার শ্রেয়।
  • সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি। আর এক কপি স্টাম্প সাইজ ছবি।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট (বিগত দুই মাসের)
  • নির্ভুলভাবে ভিসা ফর্ম পূরন করতে হবে। ফর্ম পুরনের সময় ভুল তথ্য দিলে ভিসা আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
  • ফরওয়ার্ডি পেপার বা আমন্ত্রন পত্র (যদি থাকে)
  • হোটেল রিজার্ভেশন এর ভ্যালিড ডকুমেন্ট যাতে তারা বুঝতে পারে আপনি ঘুরতেই যাচ্ছেন।

আরো পড়ুন: অনলাইনে গামকা মেডিকেল রিপোর্ট চেক

পেশাদার ডকুমেন্টস

  • আপনার ট্রেড লাইসেন্স ফটোকপি অথবা কাজের প্রমানের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
  • টিন (কর সনাক্তকরন) সনদপত্র
  • সর্বশেষ প্রদত্ত ভ্যাট সার্টিফিকেট এর ফটোকপি
  • আমদানি ও রপ্তানি লাইসেন্স
  • শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট আইডি কার্ড

অন্যান্য কাগজপত্র

এছাড়াও ভিসা পাওয়ার পূর্বে আরো কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। নিচে তা লিস্ট আকারে উল্লেখ করা হলো

  • নোটারি অনুলিপি সহ বিবাহের সনদের অনুলিপি
  • পুলিশ ছাড়পত্রেস সনদ
  • ক্রস লাইন সহ এক পৃষ্ঠার চেক
  • স্মার্ট আইডি  কার্ডের ফটোকপি
  • ১৮ বছরের কম হলে জন্ম নিবদ্ধন কার্ড

অ্যান্ডোরা টুরিস্ট ভিসা কিভাবে আবেদন করবেন?

সাধারনত বাংলাদেশ থেকে টুরিস্ট ভিসায় যাওয়ার সময় সবাই কোন একটি এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা আবেদন করে। তাহলে আপনাকে কোন রকম ঝামেলায় পরতে হবে না। এজেন্সির আপনার কাছে উপরে যে সব তথ্যের কথা উল্লেখ করেছি সেগুলো চাইবে। আপনি সব ডকুমেন্টস দিলে তারা খুব সহজেই আপনার বিসা আবেদন থেকে শুরু করে টিকেট পর্যন্ত সব করে দিবে। তবে সেক্ষেত্রে তারা কিছু টাকা লাভ করবে অর্থাৎ আপনার খরচ একটু বেশি পড়বে।

কেউ যদি খরচের বিষয়টি মাথায় রেখে নিজে নিজে আবেদন করতে চান সেক্ষেত্রে তিনি এম্বাসিতে গিয়ে সঠিকভাবে সব তথ্য দিয়ে ভিসা ফর্ম টি পূরন করতে হবে। এরপর ভেরিফিকেরশন এ সব ঠিক থাকলে আপনি ভিসা পেয়ে যাবেন। তারপর অনলাইন থেকে টিকেট করে নিজেই খুব সহজে চলে যেতে পারবেন অ্যান্ডোরা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে।

আরো পড়ুন: সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা 2022 (নতুন আপডেট)

অ্যান্ডোরা টুরিস্ট ভিসা খরচ কত

এতক্ষন আমরা অ্যান্ডোরা টুরিস্ট ভিসা করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনের নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে ভিসা আবেদন থেকে শুরু করে অ্যান্ডোরা যাওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ভাড়া সহ মোট খরচ হতে পারে। আপনি যদি এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা ও বিমান টিকেট প্রোসেস করেন তাহলে আপনার ১ লক্ষ ২৫ হাজার থেকে শুরু করে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মত খরচ হবে। আর আপনি নিজে ভিসা প্রোসেসিং এর কাজ করতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা কম আসবে।

অ্যান্ডোরা হোটেল ভাড়া কত

অ্যান্ডোরা ঘুরতে গেলে আপনাকে ওইখানে হোটেলে থাকতেই হবে এটাই স্বাভাবিক। এখন আমরা জানাবো অ্যান্ডোরা হোটেল খরচ কেমন পড়তে পারে। অ্যান্ডোরায় অল্প দাম থেকে খুব দামি হোটেল সব রকম ই খুজে পেয়ে যাবেন। সাধারন দুই বেডের হোটেল গুলোতে থাকতে হলে প্রতিরাতে ৩০ ইউরো যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২৫০০ টাকার মত। তবে ভালো মানের হোটেলে উঠলে হোটেলের মান অনুযায়ী ভাড়া অনেক বেশি ও হতে পারে।

 

Easy Teching

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Reply