আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যোগ্যতা ও আবেদনের নিয়ম

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যোগ্যতা

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যোগ্যতা সম্পন্ন হতে গেলে আপনাকে যে বিশেষ যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তা হচ্ছে আরবিতে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করতে হবে অর্থাৎ আরবি অনেক ভালো জানতে হবে। আরবিতে যে কোন বিষয়ের উপর ব্যাখ্যা করা জানতে হবে, প্রচুর পরিমাণ আরবি শব্দ জ্ঞান থাকতে হবে এবং আরবিতে ছোট রচনা লেখার জ্ঞান থাকতে হবে। আপনি যদি এগুলোর উপর পারদর্শী হয়ে থাকেন তাহলে আপনি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যোগ্যতা অথবা পড়ার জন্য আপনাকে  কুরআনের উপর যথেষ্ট পরিমাণ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার আগে আপনাকে সেখান থেকেই বলে দেওয়া হবে কুরআনের কতটুকু মুখস্ত করতে হবে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস

মিশরের ইসলামী কায়রোতে অবস্থিত আল-আজহার মসজিদের অধীনে ইসলামিক শিক্ষা ও আরবী সাহিত্য পড়ানোর অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়। এটি মিশর তথা প্রাচীন ডিগ্রী প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান যা সুন্নি ইসলামী শিক্ষার সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন 50 বর্গমাইল বা 130 বর্গ কিলোমিটার যা মিশরের কায়রোতে অবস্থিত একটি অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়।

ইসলামী ইন ইজিপ্টের তথ্য অনুযায়ী 970 অথবা 972 সালে গোড়াপত্তন হওয়া ইসলামিক শিক্ষার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এটি। এখানে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানটি শুরু হওয়া থেকে ইসলামিক ও আরবি শিক্ষার উপর বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেছেন। এখানে সাধারণত যুক্তিবিদ্যা, জ্যোতি বিদ্যা, ব্যাকরণ , বক্তৃতা সহ অনেক বিষয়ের উপর শিক্ষা প্রদান করা হতো । পুরো পৃথিবীতে ধর্মীয় বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে এখন আধুনিক যুগ পর্যন্ত টিকে আছে।

আধুনিক আল-আজহার যাত্রা শুরু হয় হাজার 1961 সালে। মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল আব্দুন নাসের হাজার বছরের অবকাঠামো ও ঐতিহ্য ভেঙে আল-আজহার একটি সেক্যুলার বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করেন। তিনি এখানে আধুনিক অনেক বিভাগ ও অনুষদ যুক্ত করেছেন। উল্লেখযোগ্য কিছু বিভাগ অনুষদ হচ্ছে ব্যবসায় অনুষদ, অর্থনৈতিক অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ, কৃষি অনুষদ ইত্যাদি।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা

আল-আজাহার গ্রহণ করে প্রায় 5 লাখ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় 20 ভাগ শিক্ষার্থী বিদেশি। তারা বিশ্বের প্রায় 102 টি দেশ থেকে আসা।

বর্তমান আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি অনুষদে ভাগ করা আছে এগুলো হলো ইসলামিক আরবি, বিজ্ঞান ও মানবিক এই তিনটি ইউনিটে ভাগ করা আছে। এই তিনটি ভাগের মধ্যে আবার অনেকগুলো অনুষদ ও বিভাগ আছে। আল-আজহার প্রায় 87 টির মত অনুষদ আছে। যার মধ্যে মেয়েদের জন্য 40 টি মতো আর ছেলেদের জন্য 47 সংরক্ষিত আছে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ আবেদন

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় 10 জন ছাত্রের মতো আলহাজ্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পেয়ে থাকেন। সাধারণত বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আল-আজহার পড়ার যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবছর স্কলারশিপের জন্য কিছু নিয়ম পরিবর্তন আসে। তবে আল-আজহার স্কলারশিপ পেতে অবশ্যই দাখিল ও আলিম মার্কশিট, আলিমের প্রশংসা পত্র ,জন্ম সনদ, মেডিকেল সার্টিফিকেট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ছবি এসব তথ্য লাগে।

এভাবে আবেদন কার্যক্রম শেষ করার পর। তত্ত্ব ও যাবতীয় যাচাই বাছাই পর্ব শেষে যখন 10 জনকে বাছাই করা হয় সেই বাছাইকৃতদের ফলাফল বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এর কিছুদিন পর মিশর থেকে সবুজ সঙ্কেত আসে এবং বাংলাদেশ দূতাবাস সেই 10 জন ছাত্রকে ভিসার জন্য ডেকে নেয়।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নিয়ম

যারা স্কলারশিপ এর মাধ্যমে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন তারা দেশের মধ্যেই তাঁর যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। শুধু মিশরে গিয়ে নিজের নাম তানসিকে দিতে হবে। নাম জমা দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে এটা মূলত ভাষা কোর্সের বিষয়টা নির্ধারণ করার জন্য। কোর্স সম্পন্ন করে অনার্সে চলে যাবেন।

আপনারা চাইলে স্কলারশিপের মাধ্যম ছাড়া ও কিন্তু আলা আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে যাবতীয় খরচ নিজেকে বহন করতে হবে। আর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যোগ্যতা পেতে গেলে আপনাকে আরবিতে অনেক ভালো জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ

পড়ার খরচ নির্ভর করবে স্কলারশীপ নিয়ে যাচ্ছেন নাকি স্কলারশীপ ছাড়া যাচ্ছেন তার উপর। এছাড়া স্কলারশীপ এর ধরনের উপর নির্ভর করেও খরচ কম বেশি হতে পারে। নিচে বিস্তারতি আলোচনা করা হলো…

স্কলারশিপ সহ পড়ার খরচ

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় যদি আপনি স্কলারশিপ এর মাধ্যমে যান তাহলে আপনার থাকা-খাওয়া এমনকি বইপত্র সবকিছু বিনামূল্যেই মিলবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন ছুটি ও পড়াশোনা শেষে বাড়ি ফেরার টিকিট ও দেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের।

স্কলার্শিপ ছাড়া পড়ার খরচ

যদি আপনি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যোগ্যতা অর্জন করতে চান এক্ষেত্রে স্কলার্শিপ ছাড়াও যেতে পারবেন। তবে আপনাকে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় খরচ নিজেকেই বহন করতে হবে। তবে প্রথমে আপনাকে মিশরে থাকা কোন বড় ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে মিশরের সরকার অনুমোদিত কোন ভাষা কোর্স থেকে কোর্স সম্পন্ন করে নিতে হবে এবং সেখান থেকে ভিসা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে।

যার প্রসেসিংয়ের জন্য 40 থেকে 50 হাজার টাকা খরচ হতে পারে। এটি করতে পারলে মিশরে প্রবেশের ক্ষেত্রে আপনার আর কোনো বাধা থাকবে না। আবার টিকিট ভাড়া ও ভিসা প্রসেসিং করতে আপনার এক লক্ষ টাকার মতো খরচ হতে পারে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও থাকা বাবদ আপনার খরচ হবে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যোগ্যতা

স্কলারশিপে আল-আজহার গেলে  যে যে সুবিধা পাবেন

স্কলারশিপ এর মাধ্যমে আল-আজহার গেলে যা যা সুবিধা মিলে তা হচ্ছে

  • প্রথমে বিমানবন্দর থেকে ছাত্রদেরকে গাড়ি করে আল আজহার হোস্টেলের নিয়ে যাবে
  • সেখানে ফ্রি থাকার ব্যবস্থা থাকবে
  • সেখান থেকেই কেতাব অথবা বই-পুস্তক ক্রয়ের সমস্ত টাকা দিয়ে থাকে
  • ছাত্রদের জন্য ফ্রি কোরআন মুখস্ত করার কোর্স এর ব্যবস্থা
  • প্রতিমাসে ছাত্রদের জন্য মিশরীয় 500 পাউন্ড প্রদান
  • দুই বছর আলিম পাশ করার পর বাড়ি ফেরার জন্য টিকিট ফ্রি প্রদান
  • অনার্স শেষে একেবারে চলে যাওয়ার টিকিট প্রদান
  • আর যদি কেউ অনার্স শেষ করে মাস্টার্স এবং পিএইচডি এখানেই করতে চায় তাহলে তাকদিম করলে যাওয়া আসার টিকিট ফ্রি প্রদান করা  করবে
  • আরেকটি সুবিধা হলো এখানে যে কোন বয়সের লোক ভর্তি হতে পারবে যেমন আলিম কাওমি ইংলিশ মিডিয়াম সব মাধ্যমের শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে। এখানে এসে আস্তে আস্তে অনার্স কোর্স শেষ করতে পারবে।

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের নিয়ম

আল আজহার আবেদনের জন্য আপনাকে প্রথমে দাখিল ও আলিম এর মার্কশিট, আলিমের প্রশংসা ,পত্র জন্মসনদ, মেডিকেল সার্টিফিকেট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছবিসহ এই তথ্যগুলো দিতে হবে। এই তথ্যগুলো দেওয়ার পর যখন আবেদন করবেন। কিছুদিন পর ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ফলাফল দেখতে পাবেন বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে।

আমরা আপনাদের সাথে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের নিয়ম কি কি সুযোগ সুবিধা আছে। কত টাকা খরচ হতে পারে এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করছে।

মন্তব্য

পরিশেষে এটাই বলব আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যোগ্যতা শুধু তারাই পাবে যারা আরবি বিষয়ে অনেক ভালো জানবে। আরবিতে যে কোন বিষয়ের উপর ব্যাখ্যা করা জানতে হবে। প্রচুর পরিমাণ আরবি শব্দের জ্ঞান থাকতে হবে এবং আরবিতে ছোট রচনা লেখার দক্ষতা থাকতে হবে তাহলেই আল-আজহার ভর্তির জন্য সুযোগ থাকবে

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যোগ্যতা সম্পর্কে আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করেছি ।আশা করি আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের অনেক ভালো লেগেছে। যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনারা আপনাদের বন্ধু অথবা প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। হতে পারে আপনাদের একটা শেয়ারে তাদের অনেক উপকারে আসতে পারে।

আরো পড়ুন –

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Comment