মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার নিয়ম

অল্প পুজিতে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার নিয়ম

মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার নিয়ম

আপনারা অনেকেই মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা নিয়ে অনেক কৌতুহল এ থাকেন। অনেকেই ভেবে থাকেন এ ব্যবসা করা অনেক জটিল প্রক্রিয়া আবার অনেকেই এটিকে সহজ বলে থাকেন। তবে এই ব্যবসা করতে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম আপনাকে মানতে হবে।মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার নিয়ম সম্পর্কে জানা থাকলে খুব সহজেই এই ব্যবসা করা যায়।

যদি আপনি কিছু নির্দিষ্ট নিয়মের ভিত্তিতে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা শুরু করতে পারেন তাহলে আপনি ব্যবসায় অনেক সফলতা অর্জন করতে পারবেন। মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার নিয়ম গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নিয়ম হচ্ছে

  • প্রথমে ব্যবসার জন্য আপনাকে মন স্থির করে নিতে হবে। অর্থাৎ আপনি কি এই ব্যবসা করতে ইচ্ছুক? যদি ব্যবসা করতে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন তাহলে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আপনি সক্রিয় থাকবেন। এটাকে বলা হয় ব্যবসার মনোবল। অনেকেই বলে ব্যবসায় মন বল থাকলে যেকোন কিছু অর্জন করা সম্ভব।
  • তারপর ব্যবসা করার জন্য সরকার কর্তৃক ব্যবসার উপর একটি লাইসেন্স করে নিতে হবে। যে লাইসেন্স এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজে ব্যবসা করতে পারবেন। এতে করে আপনার ব্যবসা ঝামেলা মুক্ত ও বৈধ ব্যবসায় রূপ নেবে।
  • এরপর বৈদেশিক মুদ্রা আমদানি-রপ্তানি কারক যেকোনো একটি এজেন্সির সাথে অথবা ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ থাকতে হবে। যারা খুব সহজে আপনি যেইটা দেশের টাকা নিয়ে ব্যবসা করতে চাচ্ছেন সেই দেশের টাকা এক্সচেঞ্জ করে দিতে পারে।

আপনি যদি ঠিক ঠাক মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার নিয়ম গুলো সম্পর্কে বুঝে থাকেন তাহলে আপনার জন্য ব্যবসা করা সুবিধা হবে। পাশাপাশি লাভবান হতে পারবেন।

আমরা জানলাম মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার নিয়ম গুলো সম্পর্কে আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক মানি এক্সচেঞ্জ কি?

মানি এক্সচেঞ্জ কি

মানি এক্সচেঞ্জ হলো বাংলাদেশের মুদ্রা দিয়ে অন্য যে কোন দেশের মুদ্রা ক্রয় করা। এবং অন্য দেশের মুদ্রা দিয়ে বাংলাদেশের টাকা পরিবর্তন করা। সাধারণত অন্য দেশের মুদ্রা থেকে টাকা এবং টাকা থেকে অন্য দেশের মুদ্রা পরিবর্তন ব্যবস্থাটাই হচ্ছে মানি এক্সচেঞ্জ।

Money Exchange Business

আপনারা যদি অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করার কথা ভেবে থাকেন তাহলে খুব সহজে Money Exchange Business টা শুরু করতে পারেন। কেননা এ ব্যবসা করতে তেমন কোন খরচ নাই শুধু আপনার ব্যবসার জন্য সরকার থেকে লাইসেন্স করে নিতে হবে।

বর্তমান সময়ে সব থেকে লাভজনক এবং সেরা ব্যবসার আইডিয়া গুলোর মধ্যে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা মোটামুটি সবার উপরে আছে। কেননা এ ব্যবসা করতে তেমন কিছু লাগেনা আপনার অল্প কিছু টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসা করতে প্রথমে আপনাকে সরকার থেকে লাইসেন্স করে নিতে হবে।

তারপর যেটা করতে হবে তা হচ্ছে যারা বৈদেশিক পণ্য আমদানি রপ্তানি করে অথবা ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ থাকতে হবে।

সাধারণত আপনি যেসব মুদ্রা অথবা যেসব দেশের মুদ্রা নিয়ে ব্যবসা করতে চাচ্ছেন অর্থাৎ মানি এক্সচেঞ্জ করতে চাচ্ছেন। সেই সব দেশের মুদ্রার ব্যবস্থা থাকতে হবে। তার মানে ঐ সকল ব্যাংক অথবা বৈদেশিক পণ্য আমদানি রপ্তানি কারক প্রতিষ্ঠান গুলো যাদের কাছে সে দেশের নগদ মুদ্রা থাকতে হবে। তাহলে আপনি খুব সহজে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করতে পারবেন।

অনলাইন মানি এক্সচেঞ্জ করার নিয়ম

অনলাইন মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার নিয়ম সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানে। অফ লাইনে তুলনায় এখন অনলাইনে মানি এক্সচেঞ্জ করা খুব সহজ। এর জন্য আপনাকে মানুষের কাছে বিশ্বস্ততা অর্জন করতে হবে। কেননা এখন কমবেশি অনলাইনে সবাই প্রতারণার শিকার হচ্ছে। তাই অনলাইনে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা শুরু করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই ক্লায়েন্টের বিশ্বস্ততা অর্জন করতে হবে।

অনলাইনে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার নিয়ম ঠিক অফলাইনে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার মতই প্রথমে সরকার থেকে একটি লাইসেন্স করে নিতে হবে। এবং অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের সাইট আছে যেই সাইট গুলো মানি এক্সচেঞ্জ করে থাকে। এই সাইটগুলোতে একাউন্ট ক্রিয়েট করে আপনি সরাসরি অনলাইনে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

আরো পড়ুন – ব্যবসা করার সময় যে কয়েক টি ভুল করবেন না

মানি এক্সচেঞ্জার লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম

বৈদেশিক মুদ্রা কেনা বেচার জন্য সরকার মানি এক্সচেঞ্জ লাইসেন্স প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছেন অনেক আগেই। 2001 সালের পর এক সাথে দেওয়া হয় প্রায় 600 লাইসেন্স। সেই থেকে এখন পর্যন্ত দিন দিন এই ব্যবসার উপর মানুষ গুরুত্ব বেড়েই চলছে।

মানি এক্সচেঞ্জার লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে কডাকডি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রজ্ঞাপনে বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। মানি এক্সচেঞ্জ এর লাইসেন্স নবায়নের আবেদন পত্র সঙ্গে প্রয়োজনীয় দলিলের সঙ্গে ভ্যাট পরিষদের প্রত্যয়ন পত্র দাখিল করতে হবে।তা না হলে মানি চেঞ্জার লাইসেন্স নবায়ন হবে না।

প্রসঙ্গত, লেনদেনের ওপর মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর 15% ভ্যাট সহ 5000 টাকা লাইসেন্স নবায়ন ফি দিতে হবে। জানা গেছে এখন পর্যন্ত 636 টি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু নানা অনিয়মের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক 65% লাইসেন্স বাতিল করে। বর্তমান বৈধ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা 232 টি এর মত। অবশ্য শর্ত পূরণ করতে না পারায় লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাওয়ায় অনেক মানি এক্সচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান আদালত স’গিতাদেশ নিয়ে ব্যবসা করছে। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে ব্যবসা করার কারণে লাইসেন্স নবায়ন ফি পারছে না সরকার।

এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার নিয়ম

মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার সুবিধা

মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার সুবিধা অন্যান্য ব্যবসার তুলনায় অনেক বেশি। কেননা মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করতে আপনাকে কোন ইনভেস্ট করতে হয় না। অন্যান্য ব্যবসায় যেমন আপনি কোন পণ্য অথবা টাকা ইনভেস্ট করে থাকেন অর্থাৎ যখন সে পণ্য বিক্রি করবেন তখন সে টাকা ফেরত পাবেন।

তার আগে টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। কিন্তু মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার ক্ষেত্রে বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা আপনি যে টাকা দিয়ে মানি এক্সচেঞ্জ করছেন। আপনি চাইলে যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারেন।

কেননা এই টাকা সর্বদা আপনার অ্যাকাউন্টে জমা থাকে আপনি যে পরিমাণ টাকা এক্সচেঞ্জ করবেন সে অনুযায়ী টাকা পাবেন। আর যদি টাকা এক্সচেঞ্জ না করেন তারপরেও কিন্তু আপনি আপনার একাউন্টের যেমন টাকা ঠিক তেমন টাকায় পেয়ে যাচ্ছেন। অর্থাৎ এখানে আপনার কোন লস হচ্ছে না। বরং যত বেশি টাকা একচেঞ্জ করতে পারবেন তত বেশি লাভ করতে পারবেন।

মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা ইনকাম

মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করে অনেক টাকা ইনকাম করা সম্ভব। তবে সঠিক উপায় এবং সঠিক পথ অবলম্বন করে যদি আপনি ব্যাবসা করতে পারেন তাহলে আপনি মাসে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এখানে বলে রাখা ভালো আপনি যে পরিমাণ মানি এক্সচেঞ্জ

অর্থাৎ অন্য দেশের মুদ্রা থেকে টাকা পরিবর্তন অথবা টাকা থেকে অন্য দেশের মুদ্রা পরিবর্তন করতে পারবেন তত বেশি ইনকাম করতে পারবেন।

মন্তব্য

আজকে আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করেছি মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার নিয়ম গুলো সম্পর্কে। সেই সাথে মানি এক্সচেঞ্জ কি? স্বল্প পুঁজিতে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার নিয়ম ও মানি এক্সচেঞ্জ লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম এবং মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা করার সুবিধা গুলো সম্পর্কে।

আজকের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে আপনাদের বন্ধু অথবা শুভাকাঙ্খীদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আর্টিকেলটি সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমরা খুব দ্রুত আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

আরো পড়ুন – কম খরচে হালাল ব্যবসার আইডিয়া ২০২৩

Easy Teching

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Reply