কফ কাশি দূর করার উপায় ও ঘরোয়া চিকিৎসা

কফ কাশি দূর করার উপায়

বর্তমানে কফযুক্ত কাশি খুব কমন একটি সমস্যা। ছোট-বড় যে কারো এই রোগটি হতে পারে। সঠিকভাবে চিকিৎসা করলে এবং শুরু থেকে সর্তকতা অবলম্বন করলেই খুব সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রথমে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

আজকে আমরা কফ কাশি দূর করার উপায় ও ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব। আশা করছি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লাগবে।

বুকে কফ কেন হয়

ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার আক্রমনের ফলে সাধারনত ঠান্ডাজনিত সর্দি কাশি হয়ে থাকে। লম্বা সময় সর্দি কাশির যথাযথ চিকিৎসা না করালে বুকে কফ জমে যেতে পারে। সাধারণত সিজনাল কারণে এবং ভাইরাসের আক্রমনের ফলে মানুষের ঠান্ডা বা দর্শন যে সমস্যাগুলো হয়ে থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের বছরে চারবার এবং শিশুর ক্ষেত্রে বছরে 10 বার পর্যন্ত ঠান্ডা সর্দি হওয়ার স্বাভাবিক। সাধারণত পরিবেশগত সমস্যার কারণে এবং শরীরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে এই পরিমাণ কমবেশি হতে পারে।

বুকে কফ জমার লক্ষণ

বুকে কফ জমার লক্ষণ একেক মানুষের একেক রকম। তবে বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ লক্ষণ খেয়াল করা যায়। এ পর্যায়ে আমরা বুকে কফ জমার লক্ষণ গুলো আলোচনা করব

চিকিৎসায় বিলম্ব করলেন –  লম্বা সময় ধরে সর্দি কাশির চিকিৎসা না করলে বুকে কফ জমে যেতে পারে

শুরুতেই ঔষধ গ্রহন করলে – ঠান্ডা লাগার সাথে সাথেই হিস্টাসিন কিংবা সিনামিন এর মত সর্দির ওষুধ গুলো গ্রহন করল বুকে কফ জমে যেতে পারে। অর্থাৎ ঠান্ডা লাগার সাথে সাথেই শুরুতেই ট্যাবলেটগুলোর না খাওয়াই উত্তম।

অপরিষ্কার চলাফেরার ফলে – ঠান্ডা লাগার পর যথাসম্ভব শুষ্ক পরিষ্কার জায়গায় থাকতে হবে। তুলনামূলক অপরিষ্কার কিংবা ধুলোবালির মধ্যে চলাফেরা করলে বুকে কফ জমে যেতে পারে।

এলার্জি জনিত সমস্যা – উপরের কারণগুলো ছাড়াও যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে অল্পতেই বুকে কফ জমা দিতে পারে। তাই আপনার যদি অ্যালার্জিজনিত সমস্যা থেকে থাকে তাহলে শুরু থেকেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

বুকে কফ জমলে করণীয়

উপরে আমরা বুকে কফ কেন হয় এবং বুকে কফ জমার লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই পর্যায়ে আমরা দেখব বুকে কফ জমলে করণীয় কি। জামাটা আমরা বলেছিলাম এই সমস্যা সমাধানের শুরুতেই ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত ঘরোয়া পদ্ধতি কাজ না হলে এরপর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ কিংবা সিরাপ নিতে হবে।

বুকের কফ বের করার ঘরোয়া উপায়

যেহেতু বুকে কফ জমে যাওয়া ঠান্ডা সর্দি লাগে খুবই স্বাভাবিক এবং সচরাচর হয় এমন একটি রোগ তাই শুরুতেই ভারী ওষুধ গ্রহণ না করে ঘরোয়া পদ্ধতিতে এই রোগের চিকিৎসা করা উচিত। এতে করে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে না।

লেবু ও মধুর মিশ্রণ – মধুর বিভিন্ন উপকার সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই জানি। এক টেবিল চামচ খাটি মধুর সাথে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে দিনে তিনবার খেতে হবে এতে করে ঠান্ডা কেটে যাবে। সেইসাথে গলায় বুকে কফ জমে থাকলে সেটিও বের হয়ে যাবে। এছাড়াও মধু এবং লেবুর রস মিশ্রণ গলা পরিষ্কার করতেও ভূমিকা রাখে।

গরম পানি ও আদার মিশ্রণ – এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে সামান্য আদা জ্বাল দিয়ে নিন। কিছুটা লাল চায়ের মত একটি মিশ্রণ তৈরি করুন এবং কিছু সময় পর পর এই পানি পান করতে হবে। ঠান্ডার সময় আমরা এমনিতেই গরম পানি পান করি শুধু এই সাথে আধার মিশ্র চক করলেই বুকে কফ জমার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

গরম পানির ভাপ – একটি পাত্রে কিছু পরিমাণ গরম পানি নিন এবং মাথার উপর একটি গামছা দিয়ে গরম পানির পাত্রের উপরে মাথার উপুড় করে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিন। এতে করে নাসারন্ধ্র জমে থাকা শ্লেষা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

তরল খাবার – ঠান্ডা লাগলে যত বেশি সম্ভব তরল ও গরম খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন স্যুপ, গরম পানি, চা কপির মত তরল ও কোন খাবারগুলো বেশি বেশি গ্রহণ করার চেষ্টা করতে হবে তারপরে গলা পরিষ্কার হবে এবং বুকে কফ জমে থাকলে তা জুতো উপশম হবে।

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার – ৪ চামচ উষ্ণ পরিষ্কার পানির সাথে ১ চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার যোগ করে পান করুন। দিনে দুই থেকে তিনবার এই মিশ্রণটি দান করার চেষ্টা করুন এতে করে গলা পরিষ্কার থাকবেন বেগম জমে থাকলে তা দ্রুত বের হয়ে যায়।

পেঁয়াজ – কাঁচা পেঁয়াজ ও গলা পরিষ্কার করার জন্য অধিক কার্যকরী। ঠান্ডা লাগলে কিংবা অন্য কোন খাবারের সাথে কাঁচা পেঁয়াজ মেখে খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এতে করে গলা ও নাক পরিষ্কার থাকবে।

লবন পানি কুলিকুচি – এক গ্লাস গরম জলে পরিমান মত লবন মিশিয়ে তা দিয়ে নিয়মিত কুলিকুচি করুন। অর্থাৎ মুখে নিয়ে তার গলা পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে এবং আবার তাহলে দিন এভাবে নিয়মিত গরগরা করলে গলা পরিষ্কার থাকে এবং ভেতরে কফ থাকলে তা পরিষ্কার হয়ে যায়।

হলুদ – হলুদে থাকা কারকুমিন বুক থেকে কফ দূর করে দেয় এবং ঠান্ডা জনিত গলা ও বুক ব্যথার উপশন হিসেবে কাজ করে।

এক গ্লাস গরম জলে এক চিমটি হলুদ গুড়া মিশিয়ে দিন এবং এ দিয়ে কুলিকুচি করুন। এতে করে গলা পরিষ্কার থাকবে এবং বুকের কফ পরিষ্কার থাকবে।

বুকের কফ বের করার সিরাপ

সাধারণত বুকের কফ বের করার সিরাপ হিসেবে বর্তমানে ডাক্তাররা Ambolyt 15 ml এই সিরাপটি সাজেস্ট করে দারুন। তবে যেমনটা আমরা বলেছি সর্দি ঠান্ডা লাগলে শুরুতেই সিরাপ বা ট্যাবলেট না খেয়ে ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি কাজ না করলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সিরাপ বা ট্যাবলেট নিতে হবে।

বুকের কফ বের করার হোমিও ঔষধ

বুকের কফ বের করার বেশ কিছু হোমিও ঔষধ রয়েছে। সাধারনত ব্রায়োনিয়া, জাস্টিসিয়া আধা, একোনাইট ন্যাপ, আরোলয় রেসি, ক্যালেকিরয়া কার্ব, চেলিডোইয়াম এই ঔষধগুলো ঠান্ডা ও কফ জনিত সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবহার করা হয়।

তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে হোমিও ঔষধ দ্রুত কাজ করে না। লম্বা সময়ের পরিকল্পনা করে চিকিৎসা করতে চাইলে হোমিও বেশ ভালো একটি পছন্দ হতে পারে।

কফ কাশি দূর করার উপায় ও ঘরোয়া চিকিৎসা

 

মন্তব্য

আজকে আমরা কফ কাশি দূর করার উপায় ও ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি আর্টিকেলটি আপনাদের ভাল লেগেছে কোন প্রশ্ন বা মতামত জানা থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।

আরো পড়ুন – 

Easy Teching

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Reply