ফিনল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা 2022 | ফিনল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের যোগ্যতা

ফিনল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা 2022

উত্তর ইউরোপের নরডিক দেশিগুলোর একটি হলো ফিনল্যান্ড। এই দেশটি অনেক গুলো কারনে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে সুপরিচিত তারমধ্যে একটি হলো উচ্চশিক্ষা। ফিনল্যান্ড কে বলা হয় উচ্চশিক্ষার স্বর্গরাজ্যে। 2022 সালে যদি আপনার স্বপ্ন হয় ফিনল্যান্ড উচ্চশিক্ষা তাহলে এই ব্লগটি আপনার জন্য। ফিনল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা 2022 নিজে আজকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ইনশা আল্লাহ।

ফিনল্যান্ডে স্টুডেন্ট ভিসার খরচ কত?

ফিনল্যান্ডে যারা স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে চান। তারা প্রশ্ন করে থাকেন ফিনল্যান্ডে স্টুডেন্ট ভিসা করতে কত টাকা খরচ হতে পারে। ফিনল্যান্ডের স্টুডেন্ট ভিসা নিচে দেওয়া হল।

ফিনল্যান্ড এর স্টুডেন্ট ভিসা পেতে হলে আপনাকে প্রায় 360 থেকে 560 ইউরো ফি দিতে হবে। এইচপি আপনাকে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে। কিছু কিছু দেশে পড়াশোনা করতে যেতে চাইলে স্বাস্থ্য বীমা করা প্রয়োজন হয়ে থাকে। ফিনল্যান্ডে যেতে হলে অন্য দেশ থেকে স্বাস্থ্য বীমার প্রয়োজন হয় কিন্তু বাংলাদেশ থেকে স্বাস্থ্য বিমার প্রয়োজন হয় না। এটা আমাদের জন্য অনেকটাই সুবিধা।

ফিনল্যান্ডের স্টুডেন্ট ভিসা পেতে কত সময় লাগে?

আপনারা যারা ফিনল্যান্ডের স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করবেন। তারা অবশ্যই ভিসা আবেদনের জন্য একটু বেশি সময় দেবেন। আপনি আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহীত এবং নথিভূক্ত হওয়ার পরে তবে আপনি ফিনল্যান্ডের স্টুডেন্ট ভিসা করার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করতে চাচ্ছেন সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার একমাস আগে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। আপনি যদি ফিনল্যান্ডে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করেন তাহলে স্টুডেন্ট ভিসা পেতে প্রায় এক মাস এর মত সময় লাগতে পারে।

ফিনল্যান্ডের স্টুডেন্ট ভিসার জন্য যে সকল পদক্ষেপ প্রয়োজন

যেকোন দেশেই স্কলারশীপের জন্য আবেদনের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম নীতি থাকে। প্রতিটা ধাপ শুরু থেকে জানা থাকলে অহেতুক আর ঝামেলায় পড়তে হয় না। ফিনল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা 2022 এর জন্য আবেদনের ক্ষেত্রেও আপনাকে কিছু জিনিস আগে থেকে জানতে হবে এবং কিছু ধাপ অনুসরন করতে হবে।

  1.  প্রথমত আপনাকে ফিনল্যান্ডে ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর সাথে অনলাইনে নিবন্ধন রাখতে হবে।
  2.  ভিসা আবেদন কেন্দ্র থেকে আপনাকে একটি অ্যাপোয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
  3.  ফিনল্যান্ডে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আপনাকে কাগজপত্র দূতাবাসে জমা দিতে হবে।
  4.  ফিনল্যান্ডের স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আপনাকে বায়োমেট্রিক্স প্রদান করতে হতে পারে। এগুলো নেওয়ার মূল কারণ সে দেশের নিরাপত্তার জন্য।
  5.  ইংল্যান্ডে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আপনাকে ইন্টারভিউয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে।
  6.  আপনি আপনার কোর্সের মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ থাকবেন। আপনার কোর্স শেষ হয়ে যাওয়ার পর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। আপনাকে প্রতিবছর ভিসা নবায়ন করতে হতে পারে।

ফিনল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসার জন্য যে সকল ডকুমেন্ট প্রয়োজন

আপনি ফিনল্যান্ডে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে চাইলে আপনার যে সকল ডকুমেন্টগুলো প্রয়োজন হবে তা নিয়ে আলোচনা করা হলো। প্রথমত আপনাকে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন তা দিতে হবে। আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে 560 ইউরো আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের রয়েছে। ফিনল্যান্ড যাওয়ার জন্য আপনার কোন মেডিকেল পরীক্ষা করতে হবে না।

ফিনল্যান্ডে যে সকল বিষয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে

যেকোন দেশ বা বিশ্ববিদ্যালয় স্কলারশিপের জন্য টার্গেট করার পূর্বে আপনাকে জানতে হবে সেখানে কোন কোন সাব্জেক্টে পড়াশুনার সুযোগ আছে। ফিনল্যান্ড সাধারনত সব সাব্জেক্ট এর উপর ই উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিয়ে থাকে তবে ফিনল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা  2022 এর এর আওতায় কিছু সাব্জেক্টকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। দেখে নিন আপনার পছন্দের সাব্জেক্ট এই তালিকায় আছে কি না।

  • শিল্পকলার ইতিহাস
  • অর্থনীতি
  • রাষ্ট্র ও সমাজ
  • ধর্ম দ্বন্দ্ব ও সংলাপ
  • আন্তর্জাতিক গণ আইন
  • সংবাদমাধ্যম অধ্যায়ন
  • জৈব তথ্যপ্রযুক্তি
  • রাসায়নিক জীববিজ্ঞান
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • খাদ্য বিজ্ঞান ও খাদ্য রসায়ন
  • গনিত 
  • পরিসংখ্যান

ফিনল্যান্ড স্কলারশিপ স্টুডেন্ট ভিসা

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গমন এর প্রধান একটি বাধা হচ্ছে খরচ। ভিসা প্রসেসিং থেকে শুরু করে যাতায়াত এ অনেক খরচ হয়ে থাকে। উচ্চশিক্ষার জন্য মূলত দুইভাবে বিদেশ যাওয়া যায়। প্রথমত নিজের ব্যক্তিগত খরচে আর আপর উপায় হচ্ছে স্কলারশিপ নিয়ে বাইরে পড়তে যাওয়া। যেহেতু ব্যায় সাপেক্ষ তাই আগ্রহি প্রার্থীকে স্কলারশিপের জন্য চেষ্টা করা উচিৎ। ফিনল্যান্ড এর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবশর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর পরিমান ছাত্রকে স্কলারশীপের সুযোগ দিয়ে থাকে।

ফিনল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যে সকল সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন

বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর প্রচুর ছাত্র ফিনল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে সেদেশে পড়তে যায়। ফিনল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য কিছু অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা রয়েছে। আপনারা ফিনল্যান্ডে পড়াশোনা করার জন্য যেতে চাইলে এগুলো জানা জরুরী। ফিনল্যান্ডে যারা উচ্চশিক্ষার জন্য যেয়ে থাকেন তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করার সুযোগ (পার্ট টাইম জব) রয়েছে। এর জন্য মূলত যারা শিক্ষার জন্য ফিনল্যান্ডে যেয়ে থাকেন তারা সেখান থেকে টাকা আয় করে নিজেরা চলাচল করে এবং কিছু টাকা জমা করতে পারে।

ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন?

আমরা জানি ফিনল্যান্ড একটি উন্নত রাষ্ট্র। ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত। ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য অনেক দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এসে থাকেন। ফিনল্যান্ডে কম্প্রিহেনসিভ শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যার বয়স ধরা হয়েছে 7 থেকে 16 বছর পর্যন্ত। প্রাথমিক ও নিম্নমাধ্যমিক এ তারা যে সকল বিষয়ের ওপর শিক্ষা নিয়ে থাকেন তা হলো ভাষা,, গণিত,, সমাজবিজ্ঞান,, সাধারণ বিজ্ঞান,, সংগীত ও চিত্রকলা।
ফিনল্যান্ডে মাতৃভাষা ছাড়াও আরো কয়েক রকম ভাষা শিখতে হয়। ফিনল্যান্ডের শিক্ষার্থীরা 17 থেকে 19 বছর এরমধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে এবং এটাও এক প্রকারের বাধ্যতামূলক বলা যায়। উপর আলোচনা থেকে খুব সহজে বুঝতে পারি ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা উন্নত ও সুপরিকল্পিত।

ফিনল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা ধরন

ফিনল্যান্ডে যে সকল শিক্ষার্থী পড়াশোনা করার জন্য যেতে চান তাদের মূলত দুই রকম ভিসা দিয়ে থাকেন। ফিনল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা এবং বাসস্থান পারমিট ভিসা।
ফিনল্যান্ডে যাওয়া ছাত্র ভিসা নিয়ে যেয়ে থাকেন তাদের ভিসা অস্থায়ী এবং স্বল্প মেয়াদী হয়ে থাকেন।
ফিনল্যান্ডে যদি কেউ ছাত্র থাকার অনুমতি পান তবে একটি শিক্ষার্থীকে 90 দিনের বেশি থাকার জন্য এবং পড়াশোনা করার জন্য ইস্যু করা হয়। যারা ফিনল্যান্ডে সম্পূর্ণ ডিগ্রী কোর্স এর জন্য স্বীকৃত হয়েছে তারা এক বছরের জন্য আবাসনের অনুমতি পেয়ে থাকেন।
ফিনল্যান্ডে যেসকল শিক্ষার্থীরা এক বছরের জন্য বাসস্থান পেয়ে থাকেন এবং তারা যদি আরো বেশি সেখানে থাকতে চায় তাহলে তাদের স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে এক্সটেনশনের জন্য আবেদন করার প্রয়োজন হয়ে থাকে।

মালয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

ফিনল্যান্ডে ছাত্র রেমিটেন্স পারমিট অর্জন পদক্ষেপ

আপনি যদি ফিনল্যান্ডে যেতে চান এবং ফিনল্যান্ডের ছাত্র রেমিটেন্স পারমিট অর্জন করতে চান তাহলে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে তা নিচে দেওয়া হল।

  • আবাসনের অনুমতি পত্র আবেদন এর ফরম পূরণ করতে হবে।
  • আবাসনের জন্য যে সকল প্রয়োজনীয় নথি প্রয়োজন হবে সেসকল নথি সংগ্রহ করতে হবে।
  • আবাসনের আবেদনের জন্য ছবি সরবরাহ করতে হবে। ছবিটি অবশ্যই রঙিন হতে হবে। ছবিটি সদ্য তোলা ছবি হতে হবে। অনেক দিন আগের ছবি গ্রহণ করা হবে না।
  • সবকিছু যদি সঠিকভাবে করা হয়ে থাকে তবে আপনি বাসভবন পারমিট আবেদন ফর্ম টি জমা দিতে পারেন। জমা দেওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে আপনার নিকটবর্তী দূতবাসে জমা দিতে হবে।
  • বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহ করতে হবে।
  • বায়োমেট্রিক ডেটা টি সকল ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে।
  • বাসস্থান পারমিট কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। আপনি আপনার নিজস্ব বাসস্থানের পারমিট কাজ সংগ্রহ করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য রেসিডেন্সি ফি

শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্ট পার্মিটের জন্য জমা দিতে হবে প্রায় তিনশো 60 ইউরো।

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Comment