নামাজের নিষিদ্ধ সময় | যে ৩ সময়ে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ

নামাজের নিষিদ্ধ সময়

ইসলামে ঈমানের পর যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ত্ব দেয়া হয়েছে তা হলো নামাজ।  বলা হয়ে থাকে মোমিন এবং কাফেরের মধ্যে পার্থক্য করা হয় নামাজের মাধ্যমে। আমাদের প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মানুষ এবং শির্ক কুফুরীর মধ্যে পার্থক্য সালাত ছেড়ে দেওয়া”। (সহীহ মুসলিম) ।  এছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন “আমাদের ও তাদের (কাফিরদের) মধ্যে যে পার্থক্য তা হলো সালাত। অতএব, যে সালাত ছেড়ে দিল সে কুফুরী করল।” (আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ)।

তাহলে আমরা জানলাম নামাজের গুরুত্ব ইসলামে ঠিক কতটা। ফরজ নামাজ আদায়ের নির্দিষ্ট সময় আছে কিন্তু নফল এবং অন্যান্য নামাজ আদায়ের কোন নির্দিষ্ট সময় নেই অর্থাৎ যেকোন সময়ে আদায় করা যায়। কিন্তু ৩ সময় আছে যখন ফরয সহ সকল নামাজ পড়তে ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি ওই নিষিদ্ধ সময়ে জানাজার নামাজ পড়তে ও নিষেধ করা হয়েছে। নামাজের সময় নিয়ে আমরা অধিকাংশ মুলিম ভাই বোনেরা সচেতন হলেও  নামাজের নিষিদ্ধ সময় নিয়ে আমরা সচেতন নই। আজকের ব্লগে আমরা নামাজের নিষিদ্ধ সময় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো ও সহীহ হাদীসসমূহের রেফারেন্স সহ দেখবো ইনশা আল্লাহ।

নামাজের নিষিদ্ধ সময়ঃ যে ৩ সময়ে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ

১। সূর্যদয়ের সময়ঃ সূর্যদয়ের সময় থেকে শুরু করে ইশরাকের আগ পর্যন্ত সকল ধরনের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। অর্থাৎ সূর্যদয়ের সময় যে পূবআকাশে যে হালকা হলুদ আভা থাকে সে হলুদ আভা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। ইসলামিক স্কলারদের মতে সুর্যদয়ের সময় থেকে হকুদ আভা পুরোপুরি দূর হতে ২০ থেকে ২১ মিনিট সময় লাগে। তারমানে আজকের সুর্যদয় যদি হয় ৬ঃ১০ মিনিটে তারমানে আপনি ৬ঃ৩০ মিনিট পর্যন্ত কোন ধরনের নামাজ পড়তে পারবেন না।

২। সূর্য যখন মাথার উপর থাকে (জাওয়াল): সূর্য  যখন মাথার উপরে থাকে তখন সব ধরনের নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ। ইসলামিক পরিভাষায় এই সময়কে বলা হয় জাওয়াল। তারমানে জাওয়াল সময়ে সব ধরনের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ এমনকি এই সময়ে আয়াতের সিজদা ও দেয়া নিষিদ্ধ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কত সময় নামাজ পড়তে পারবেন না? ইসলামিক স্কলার রা গবেষনা করে জানিয়েছেন সূর্য যখন মাথার উপর থাকবে তার পাঁচ মিনিট আগে ও পরে সকল ধরনের নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকতে।

৩। সূর্যাস্তের সময়ঃ সূর্যাস্তের পূর্বে পশ্চিম আকাশে যে লাল আভা দেখা দেয় তখন থেকে সূর্য পুরোপুরি অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ। তবে ইসলামিক স্কলারদের মতে কারো যদি সমস্যার কারনে আসরের নামাজ আদায় করতে দেরি হয় এবং সে লালা আভা শুরুর পুর্বে আসরের নামাজের নিয়ত করে সেক্ষেত্রে নিষিদ্ধ সময় শুরু হলেও সে তার নামাজ শেষ করতে পারবে।

নামাজের নিষিদ্ধ সময় কত মিনিট

উপরের আমরা দেখেছি ৩ সময়ে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। এখন আমরা আরো নির্দিষ্ট করে আরেকবার দেখবো ৩ সময়ে ঠিক কত সময়ের জন্য নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সূর্যদয়ের সময় থেকে শুরু করে ২০ মিনিট, সূর্য মাথার উপর আসার আগের ও পরের ৫ মিনিট করে মোট ১০ মিনিট ও সূর্যাস্তের পূর্বে পশ্চিম আকাশে লালা আভা দেখা দেয়া থেকে শুরু করে সূর্য পুরো পুরি ঢুবে যাওয়া পর্যন্ত নামাজ পড়া নিষিদ্ধ।

নামাজের নিষিদ্ধ সময়ে জানাজার নামাজ পড়া যাবে?

নামাজের নিষিদ্ধ সময়ে ফরয, সুন্নত থেকে শুরু করে সব রকম নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। এমনকি তিলাওয়াতের সিজদা দেয়া ও নিষিদ্ধ। তারমানে নামাজের নিষিদ্ধ সময় এ জানাজার নামাজ পড়া ও নিষিদ্ধ। তবে ইসলামিক স্কলারদের মতে যদি মৃত ব্যক্তির দেহ দাফন জরুরি হয়ে পড়ে এবং নামাজের নিষিদ্ধ সময়ে জানাজা পড়া জরুরি হয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে নামাজের নিষিদ্ধ সময়েও জানাজার নামাজ পড়া যেতে পারে। তবে বরাবরের মত সকল ইসলামিক স্কলার রা এই ব্যাপারে একমত যে এই নামাজের নিষিদ্ধ সময়ে সকল ধুরনের নামাজ ও সিজদা থেকে বিরত থাকা শ্রেয়।

নামাজের নিষিদ্ধ সময় কেন?

এতক্ষন আমরা ইসলামে নামাজের গুরুত্ত্ব ও নামাজের নিষিদ্ধ সময় সম্পর্কে জানলাম। এখন পাঠকদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কেনো ইসলামে এই ৩ সময়ে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে? নামাজের নিষিদ্ধ সময়ে সকল ধরনের সিজদা থেকে বিরত থাকতে বলার কারন মুলত দুটি:

এক: ইসলামের অন্ধকার যুগ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এক শ্রেনির অমুসলিম সূর্যাদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্যকে পূজা করে ও সিজদা করে। এই শ্রেনির অমুসলিমকে সূর্য পূজারী বলা হয়ে থাকে। এই শ্রেনির অমুসলমানদের সাথে সাদৃশ্যতা এড়ানোর জন্য এই সময়ে মুসলিমদের নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। কারন মুসলিমরা যখন সিজদা করে তখন সেটা সুর্যকে নয়ে বরং এক ও অদ্বিতীয় মহান আল্লাহ কে করে থাকে।

দুই: এই সময়ে নামাজ পড়তে নিষেধ করার আরেকটা মূখ্য কারন হছে সূর্যদয় বা সূর্যাস্তের সময় শয়তান সমুদ্রের উপর তার দুই শিং উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে যেনো সূর্য তার দুই শিং এর মাধ্য দিয়ে উদয় বা অস্ত যায়। আর এই সময়ে যারা ই সিজদা করে শয়তান দাবী করে এই সিজদা শয়তানকে উদ্দেশ্য করে করা হচ্ছে।

সহীহ হাদীসসমূহের রেফারেন্স

❝ সাহাবী উকবা বিন আমের জুহানী রা. বলেন, ৩ সময়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নামাজ পড়তে এবং মৃত ব্যক্তিকে দাফন করতে নিষেধ করতেন। সূর্য উদয়ের সময়, যতক্ষণ না তা পুরোপুরি উঁচু হয়ে যায়। সূর্য মধ্যাকাশে অবস্থানের সময় থেকে নিয়ে তা পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া পর্যন্ত। যখন সূর্য অস্ত যায়। ❞ [সহীহ মুসলিম]

❝ সূর্য যখন গোলক উদিত হয় তখন সলাত ত্যাগ করবে, যে পর্যন্ত সূর্য বেশ স্পষ্ট হয়ে না উঠবে। ঠিক এভাবে আবার যখন সূর্য গোলক ডুবতে থাকে তখন সলাত আদায় করা থেকে বিরত থাকবে, যে পর্যন্ত সূর্য সম্পূর্ণভাবে ডুবে না যায়। আর সূর্য উঠার ও অস্ত যাওয়ার সময় সলাতের ইচ্ছা করবে না। কারণ সূর্য শায়ত্বনের (শয়তানের) দু’ শিং-এর মধ্যখান দিয়ে উদয় হয়।❞ [বুখারী ৫৮৫, ৩২৮৩, মুসলিম ৮২৮]

আরো পড়ুন

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Comment