ডাকঘর তিন বছর মেয়াদী হিসাব, পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম

পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম

বর্তমান সময়ে কেউ ই টাকা ফেলে রাখতে চায় না। আমরা সবাই চাই আমাদের জমানো অতিরিক্ত টাকা কীভাবে কাজে লাগিয়ে মুনাফা অর্জন করা যায়। সাধারণত বেশিরভাগ মানুষই কিছু টাকা জমলেই ব্যাংকের ফিক্স ডিপোজিট করে রাখে কিন্তু ২০২২ সালে এসে ব্যাংকে যেখানে মাত্র ৫% থেকে ৬% লাভ দিয়ে থাকে সেখানে সঞ্চয় পত্রের মাধ্যমে টাকা জমা রাখলে বছরে ৯% থেকে ১১% পর্যন্ত লাভ পাওয়া যায়। তাই বর্তমানে ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করার চেয়ে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের মাধ্যমে টাকা জমানোর বুদ্ধিমানের কাজ।

পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম
ছবি – পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম

আজকে আমরা ডাকঘর তিন বছর মেয়াদী হিসাব, পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। পোস্ট অফিস সঞ্চয় কি, পোস্ট অফিস সঞ্চয় পত্র কত প্রকার এবং কিভাবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন তা আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। আশা করি পোস্টটি আপনাদের কাজে আসবে।

পোস্ট অফিস সঞ্চয় পত্র কি

সঞ্চয় পত্র মূলত জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর ব্যুরোর অধীনে এক বিশেষ ধরনের ফিক্সড ডিপোজিট বা সঞ্চয় স্কিম। আরেকটু সহজভাবে বললেন আমরা ব্যাংকে যেভাবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা রাখি ঠিক একই ভাবে পোষ্ট অফিসে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রাখতে হবে। আপনার জমাকৃত টাকার উপর একটি নির্দিষ্ট পরিমান লাভ আপনি পাবেন। আর যেহেতু এই সম্পূর্ন প্রক্রিয়া সরকার সরাসরি নিয়ন্ত্রন করে তাই এই সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা সম্পূর্ন নিরাপদ।

পোষ্ট অফিসে টাকা রাখার সুবিধা

পোস্ট অফিস সঞ্চয় পত্র আবেদনের নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে আমাদের জানতে হবে পোস্ট অফিসে টাকা রাখার সুবিধা গুলো কি। বর্তমানে ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট রাখলে বছর শেষে আপনাকে ৫% থেকে ৬% লাভ দিয়ে থাকে যার কারণে ভালোবাসা ব্যাংকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আস্থা হারিয়ে ফেলছে। অন্যদিকে ডাকঘর সঞ্চয় পত্রের মাধ্যমে টাকা জমা রাখলে ৯% থেকে ১১% পর্যন্ত লাভ পাওয়া যায়।

এছাড়া ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করতে যথেষ্ট পরিমাণে কাগজপত্র ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হয় সে তুলনায় ডাকঘর সঞ্চয়পত্র খুব সহজে কোন ঝামেলা ছাড়াই ক্রয় করতে পারবেন।

এছাড়া যেহেতু পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্র সরাসরি বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রন করছে তাই অন্য যেকোন প্রাইভেট ব্যাংকের তুলনায় পোষ্টিঅফিস সঞ্চয়পত্র কেনা নিরাপদ

টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ঝামেলা অনেকাংশেই কম। সবকিছু বিবেচনায় ২০২২ সালে এসে মানুষ ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করার চেয়ে পোস্ট অফিসের সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে টাকা বেশি জমাচ্ছেন।

পোষ্ট অফিস সঞ্চয়স্কিম কত ধরনের হয়ে থাকে

যদিও আজকে আমাদের মূল আলোচনা পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম নিয়ে তবে মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে পোস্ট অফিস সঞ্চয়পত্র কত ধরনের তা নিয়ে পরিপূর্ণ ধারণা থাকা উচিত। পোস্ট অফিস সঞ্চয় পত্র মূলত ৪ ধরনের হয়ে থাকে

  1. পরিবার সঞ্চয়পত্র
  2. তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র
  3. পেনশন সঞ্চয়পত্র
  4. পাচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র

উপরে আলোচিত সবগুলো সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম প্রায় একই।

পোষ্ট অফিস সঞ্চয়স্কিম সুদের হার কত

আমাদের প্রোডাক্ট সঞ্চয় পত্র ক্রয় করার পরে আপনি বছরে কি পরিমাণ লাভ পাবে। প্রকৃতপক্ষে কত পার্সেন্ট লাভ পাবেন আপনি কত বছরের জন্য টাকা জমা রাখেন।

  • ৩ বছরের জন্য রাখলে ১১.২৮% মুনাফা পাবেন
  • ২ বছরের জন্য রাখলে ১০.৭০% মুনাফা পাবেন
  • ১ বছরের জন্য রাখলে ১০.২০% মুনাফা পাবেন

এছাড়াও একজন ব্যক্তি 6 মাস পর পর মুনাফা বিতরণ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে প্রথম বছরে দ্বিতীয় বর্ষ তৃতীয় বছর মুনাফা প্রদান

পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্রে কত টাকা জমা রাখা যায়

পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্রে কত টাকা জমা রাখা যায়
ছবি – পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্রে কত টাকা জমা রাখা যায়

যারা পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে টাকা জমা রাখতে চান তাদের অনেকেই জানে না পোষ্ট অফিস সঞ্চয় পত্র নতুন নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ কত টাকা রাখা যায়।

পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্রে মূলত দুই ধরনের একাউন্ট খোলা যায়।

  1. একক হিসাব (একক মালিকানা/ একজন মাত্র মালিক)
  2. যুগ্ম হিসাব (যৌথ মালিকান/ দুই জন মালিক)

সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরের উল্লেখকরা নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একক হিসাবে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা ও যুগ্ম হিসাবে সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা জমা রাখতে পারবেন।

আরো পড়ুন – ডাকঘর সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম, ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার

পোষ্ট অফিস সঞ্চয়স্কিম কিনতে কি কি লাগে

যেমনটা আমরা বলেছি পোস্ট অফিস সঞ্চয় পত্র কিনা অন্যান্য ফিক্সড ডিপোজিট এর তুলনায় অনেক সহজ এবং কাগজপত্র কম লাগে। পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম নিয়ে আলোচনা করার পূর্বে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো দেখে নেয়া যাক।

আবেদন ফরম – পোস্ট অফিসে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের জন্য প্রথমেই আপনাকে একটি আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আপনি চাইলে আবেদন প্রণালী সরাসরি অফিস থেকে নিয়ে পূরণ করতে পারেন অথবা অনলাইন থেকে আবেদন ফরম টি ডাউনলোড করে পূরণ করতে পারেন। অনলাইন থেকে পোস্ট অফিস সঞ্চয় পত্র আবেদন ফরম ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

জাতীয় পরিচয় পত্র ও ছবি– যিনি টাকা জমা রাখবেন তার বৈধ জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি আর ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙ্গিন ছবি প্রয়োজন হবে।

টি আই এন (TIN) নাম্বার – বর্তমানে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থের বিনিময়ে ডাকঘর সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারবেন কিন্তু আপনি যদি একক মালিকানা ৫ লক্ষ টাকার উপরে সঞ্চয় পত্র ক্রয় করতে চান তাহলে অবশ্যই TIN বা আয়কর পরিশোধ নাম্বারের প্রয়োজন হবে।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট – টাকা জমা দেয়ার পর টাকা জমা দেয়ার পর ব্যাংক থেকে রশিদ প্রদান করবে তা দেখাতে হবে। রশিদের অপরপাশে অবশ্যই Good for payment লিখা থাকতে হবে অন্যথায় রশিদকে গ্রহণযোগ্য হবে না

নমিনি – নমিনি হচ্ছে যিনি আপনার অবর্তমানে একাউন্টের টাকা পাবেন। পোস্ট অফিস সঞ্চয় পত্র আবেদনের জন্য অবশ্যই একজন নমিনি প্রয়োজন হবে। আবেদনের সময় নমিনির জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি অর ২ কপি ছবি লাগবে।

পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম

বর্তমানে পোস্ট অফিস সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় সহজ হয়ে গেছে। আপনি চাইলে সরাসরি ব্যাংক অথবা পোস্ট অফিস থেকে সঞ্চয় পত্র ক্রয় করতে পারেন। উপরে আমরা পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম নিয়ে আলোচনা করেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আপনার নিকটস্থ পোস্ট পোস্ট অফিসে চলে আসুন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে খুব সহজেই আপনার পোস্ট অফিস ডিপিএস অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।

বর্তমানে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ দিয়ে ক্রয় করতে পারবেন কিন্তু ৫ লক্ষ টাকার বেশি জমা রাখতে চাইলে অবশ্যই ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

আরো পড়ুন – ডাকঘর সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম, ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার

পোস্ট অফিস সঞ্চয় পত্র আবেদন ফরম

পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম নিয়ে আলোচনা করার সময় আমরা বলেছিলাম পোস্ট অফিস সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য দুই পৃষ্ঠার একটি আবেদন ফরম প্রয়োজন হয়। আপনি চাইলে সরাসরি ব্যাংক অথবা জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো থেকে সরাসরি আবেদন ফরম টি নিয়ে পূরণ করতে পারেন।

তবে আপনি যদি আগে থেকে ফরমটি পূরণ করতে চান সেক্ষেত্রে অনলাইন থেকে পোস্ট অফিস সঞ্চয় পত্র আবেদন ফরম ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারেন।

অনলাইন থেকে পোস্ট অফিস সঞ্চয় পত্র আবেদন ফরম ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন। লিকে ক্লিক করার পর আমি দুই পৃষ্ঠার একটি আবেদন ফরম পেয়ে যাবেন যাবেন করে আপনি খুব সহজেই আপন করে নিতে পারেন।

সঞ্চয় পত্র কোথায় কিনতে পাব

উপরে আমরা পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে পোস্ট অফিস সঞ্চয় পত্র কোথায় কিনতে পাবেন। মূলত পোস্ট অফিস সঞ্চয়পত্র ৩ জায়গা থেকে ক্রয় করা যায়

  1. জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো
  2. সরকার নির্ধারিত ব্যাংক
  3. পোষ্ট অফিস বা ডাকঘর

মন্তব্য

উপরে আমরা ডাকঘর তিন বছর মেয়াদী হিসাব, পোষ্ট অফিস সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনাদের উপকারে এসেছে টি ভাল লাগলে আপনাদের বন্ধু এবং প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আমরা নিয়মিত এই ধরনের পোস্ট করে থাকে আমাদের ওয়েবসাইটে অন্যান্য পোষ্ট পড়তে পারেন। কোন প্রশ্ন বা মতামত জানানোর থাকলে কমেন্ট বক্সে করতে পারেন। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ

আরো পড়ুন – ডাকঘর সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম, ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Comment