স্থায়ীভাবে মোটা হওয়ার ইসলামিক উপায় | মোটা হওয়ার প্রাকৃতিক ও কার্যকরি খাবার

মোটা হওয়ার ইসলামিক উপায়

আসসালামু আলাইকু। প্রিয় পাঠক আমাদের মধ্যে অনেকেই এমন আছেন যারা তাদের চিকন ও রোগা পাতলা শরীর নিয়ে বেশ চিন্তিত এবং স্বাস্থ্য ভালো করার জন্য উপায় খুজছেন আজকের ব্লগটি তাদের জন্য। সাধারনত আমাদের দেশে মোটা হওয়ার জন্য আমরা বিভিন্ন ট্যাবলেট বা সিরাপ খেয়ে থাকি যা একসময় আমাদের শরীরের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই আজকে আমরা দেখবে মোটা হওয়ার ইসলামিক উপায় বা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সঃ এর বলে যাওয়া মোটা হওয়ার খাবারের রেসিপি।

আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা চিকন স্বাস্থ্যের কারনে সবার সাথে মিশতে হিনমন্যতায় ভোগেন। বিশেষ করে কিশোর বয়সের ছেলে মেয়েদের মধ্যে এই সমস্যা টা বেশি দেখা যায়। তারা তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক সময় এতটায় টেনশনে থাকে যে ঠিকভাবে কারোসাথে দেখা বা কথা বলতে লজ্জা পায় এবং নিজের মধ্যে কনফিডেন্স খুজে পায় না। তখন তারা ন্যাচারাল খাবার বাদ দিয়ে দ্রুত মোটা হওয়ার জন্য বাজারের ক্ষতিকর ঔষধগুলো সেবন করে। তাই তাদের জন্য আজকে আমরা বলবো মোটা হওয়ার ইসলামিক উপায়।

আরো পড়ুন: ইড়া পিঙ্গলা নাড়ির ব্যায়াম করার সঠিক নিয়ম ও উপকারিতা (ছবি সহ বিস্তারিত)

হাদিসের আলোকে মোটা হওয়ার খাবার

চিকন স্বাস্থ্যের মানুষকে শুধু দেখতে ই খারাপ লাগে না অনেক সময় এই কম স্বাস্থ্য মারাত্মক পুষ্টিহীনতার জন্ম দিতে পারে। তবে এর মানে এই না আপনি অস্বাস্থ্যকর উপায়ে ঔষধ খেয়ে মোটা হয়ে যাবেন। আপনাকে অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে প্রাকৃতিক উপায়ে খাবারের মাধ্যমে মোটা হওয়ার যা আপনার শরীরকে স্থায়ীভাবে মোটা করবে এবং স্থায়ীত্ত্ব অনেক বেশি হবে।

মোটা হওয়ার ইসলামিক উপায় হাদিসে নবী করিম হযরত মুহাম্মদ সঃ বলে গেছেন বহু বছর আগে। এই ব্যাপারে বেশ কিছু বিশ্বস্ত সূত্র থেকে হাদিস পাওয়া যায়। চলুন দেখে নেই মোটা হওয়ার ইসলামিক উপায় সম্পর্কে হাদিসে কি বলা হয়েছে।

হাদিস – ১: হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্নিত , তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের ইচ্ছা ছিল আমাকে স্বাস্থ্যবতী বানিয়ে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছে পাঠাবেন। এজন্য তিনি অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। শেষে তিনি আমাকে পাকা খেজুরের সাথে শসা বা খিরা খাওয়াতে থাকলে— আমি তাতে উত্তমভাবে স্বাস্থ্যের অধিকারী হই। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৩৯০৩)

হাদিস -২: হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, আমার মা আমাকে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সংসারে পাঠাতে চাচ্ছিলেন, তাই আমার দৈহিক পরিপুষ্টির জন্য চিকিৎসা করাতেন। কিন্তু তা কোনো উপকারে এলো না। অবশেষে আমি তাজা খেজুরের সাথে শসা মিশিয়ে খেলাম এবং উত্তমরুপে দৈহিক পরিপুষ্টি লাভ করলাম।’ (আবু দাউদ,হাদিস : ৩৩২৪)

তাহলে হাদিসের আলোকে বিশ্লেষন করলে দেখা যায় যে শষা এবং খেজুর একসাথে খেলে স্বাস্থ্য বাড়বে। তবে আপনি যদি সাধারন ঔষধ খেয়ে মোটা হোন সেক্ষেত্রে শুধু আপনার স্বাস্থ্য ই বাড়বে কিন্তু আপনার শারীরিক শক্তির তেমন কোন পরিবর্তন হবে না। কিন্তু আপনি যদি খেজুর আর শষা মিক্স করে মোটা হওয়ার ইসলামিক উপায় ফলো করেন সেক্ষেত্রে আপনার স্বাস্থ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি শরিরের শক্তি ও যথেষ্ট বৃদ্ধি পাবে।

এখন সম্মানিত পাঠকগন অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন সাধারনত শষা তো খাওয়া হয় স্বাস্থ্য কমানোর জন্য বা চর্বি কাটানোর জন্য। তাহলে মোটা হওয়ার ইসলামিক উপায় বর্ননা করতে গিয়ে কেনো শষার কথা বলা হয়েছে। এখানে একটা ব্যাপার খেয়াল করতে হবে যে শুধু শষা নয় বরং মোটা হওয়ার ইসলামিক উপায় এ শষা এবং খেজুর একসাথে খেতে হলা হয়েছে। তাছাড়া শষা ও খেজুর একসাথে খাওয়া নবিঈর সুন্নত ও বটে।

হাদিস ৩: আবদুল্লাহ ইবনু জাফর (রা.) হতে বর্নিত তিনি বলেন, নবী (সা.) খেজুরের সঙ্গে একত্রে শসা খেতেন। (সহিহ ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৩২৫)

আরো পড়ুন: কেগেল ব্যায়ামের উপকারিতা

মোটা হওয়ার ভিটামিন সিরাপ

উপরের আলোচনা থেকে যেমনটা বুঝতে পারছেন মোটা হওয়া বা স্বাস্থ্য বাড়ানোর জন্য কোন ভাবেই ঔষধ খাওয়া ঠিক না সেটা যে কোন রকম ঔষধ ই হোক না কেনো। তবে একান্তই যদি কারো প্রয়োজন পড়ে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাজারে কিছু ভালো ভিটামিন সিরাপ যায় সেগুলো খেয়ে করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে তাহলে আপনার শরীর অনুযায়ী ডাক্তার ঔষধ দিবেন।

তবে মোটা হওয়ার জন্য আপনি চাইলে সিনকারা  নামের একটি সিরাপ পাওয়া যায়। সিনিকারা মুলত হামদার্দ কোম্পানির একটি বহুল বিক্রিত ঔষধ যা মূলত ইউনানি পদ্ধতিতে বানানো তাই আপনার শরীরের জন্য তেমন ক্ষতিকর হবে না আশা করি। এটা একইসাথে আপনার শরীরের হজম শক্তি ও বৃদ্ধি করবে।

মোটা হওয়ার হোমিও ঔষধ

মোটা হওয়ার হোমিও ঔষধ এর মধ্যে আলফামালট এবং আলফালফা নামের ঔষধ দুটি ব্যবহার করতে পারেন। এই দুটি ঔষধ মূলত আপনার শরীরের চর্বি না বাড়িয়ে স্বাস্থ্য বাড়াতে সাহায্য করে। তবে মোটা হওয়ার হোমিও ঔষধ সেবনের পূর্বে অবশ্যই একজন ভালো মানের হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

যেমনটা আমরা উপরে বারবার উল্লেখ্য করেছি যে স্বাস্থ্য বাড়ানোর জন্য খাবারের চেয়ে ভালো কোন উপায় হতে পারে না। অর্থাৎ মোটা হওয়ার হোমিও ঔষধ বা মোটা হওয়ার ভিটামিন সিরাপ খাওয়ার আগে অবশ্যই খাবারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক উপারে স্বাস্থ্য বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। আর এই ক্ষেত্রে আমাদের মোটা হওয়ার ইসলামিক উপায় টি ভালো একটি মাধ্যম হতে পারে আপনার জন্য।

আরো পড়ুন: ব্রেস্ট টিউমার কী, ব্রেস্ট টিউমারের লক্ষণ, চেনার উপায় ও করনীয়

শেষকথা: মোটা হওয়ার ইসলামিক উপায়

মেডিসিন কখনো খাবারের বিকল্প হতে পারে না। তাই যেকোন রকম মেডিসিন গ্রহনের পূর্বে অবশ্যই খাবাব এর মাধ্যমে ট্রাই করতে হবে। এইক্ষেত্রে আমাদের মোটা হওয়ার ইসলামিক উপায় গুলো ফলো করলে ভালো ফলাফল আসবে আশা করা যায়।

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Comment