ল্যাপটপ স্লো হলে করণীয়

ল্যাপটপ স্লো হলে করণীয় | ল্যাপটপ হ্যাং হলে করণীয়

ল্যাপটপ স্লো হলে করণীয়

বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৭ কোটি যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬২%। স্কুল কলেজের ক্লাস থেকে শুরু করে অফিস এর কাজ সবকিছু এখন হয়ে গেছে অনলাইন নির্ভর বিশেষ করে করোনা কালীন সময়ের পর থেকে ইন্টারনেট ও ইলেকট্রিক ডিভাইজ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে পূর্বের তুলনায় কয়েকগুন। তাই এখন ছাত্র থেকে শুরু করে অফিস কর্মচারি সকলের ই ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ ব্যবহার করতে হয়।

কিন্তু ল্যাপটপ বা পিসি ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ জানে না ল্যাপটপ স্লো হলে করণীয় কি। আজকের এই ব্লগে আমরা ল্যাপটপ হ্যাং হলে করণীয় কি এই ব্যাপারে আলোচনা করবো সাথে ল্যাপ্টপ ফাস্ট করার কিছু সম্ভাব্য উপায় বলে দিবো। আর আমরা এই ব্লগে ল্যাপটপ এর জন্য লিখছি তবে আপনি একই পদ্ধতি ডেস্কটপ এর জন্য ও ব্যবহার করতে পারেন।

ল্যাপটপ স্লো হওয়ার কারন সমূহ

সাধারনত ল্যাপটপ স্লো হওয়ার জন্য হার্ডওয়্যার দ্বায়ী। অর্থাৎ আপনার ল্যাপটপে তুলনামূলক দূর্বল যন্ত্রাংশ ব্যবহারের ফলে ল্যাপটপ স্লো হয়ে যায় বা মাঝে মাঝে হ্যাং হয়ে যায়। যদি আপনার সমস্যা হার্ডওয়্যার জনিত হয় তবে আপনাকে হার্ডওয়্যার চেঞ্জ করতেই হবে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা কিছু ট্রিক ব্যবহারের মাধ্যমে হার্ডওয়্যার বা যন্ত্রংশ পরিবর্তন না করেই ল্যাপটপের স্পিড কয়েকগুন বাড়াতে পারি। নিচে ল্যাপটপ স্লো হওয়ার কিছু সম্ভাব্য কারন ও এর সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হলো

Avast ssd vs hdd

হার্ড ডিস্ক ড্রাইবঃ হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ বা সংক্ষেপে (HDD) মূলত কম্পিউতারের মেমরি হিসেবে কাজ করি। কম্পিউটারের সব ডিটেইল এখানে সংরক্ষিত থাকে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে ল্যপটপ স্লো হওয়ার জন্য এটা কিভাবে দ্বায়ী? আসলে হার্ড ড্রাইভে তথ্য গুলো জমা থাকে একধরনের ফিতার মধ্যে। যখন ই ইউজার ঐ ইনফরমেশন টা খোজে হার্ড ডিস্ক তখন ঘুরে ঘুরে ওই ফিতা থেকে তথ্য টা খুজে বের করে যা কিছুটা সময় সাপেক্ষ। কিন্তু বর্তমানে হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ এর তুলনায় সলিড স্টেট ড্রাইভ (SSD) বেশি ব্যবহার করা হয়। কারন HDD এর মত ফিজিকাল ফিতার পরিবর্তে SSD ইলেকট্রিক সংকেতের মাধ্যমে কাজ করে। তাই আপনার ল্যাপটপ যদি স্লো হয় তার মূল কারন হতে পারে আপনি হয়তো হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ বা HDD ব্যবহার করছেন।

টেম্প ফাইলঃ প্রতিদিন কম্পিউটার ব্যবহার এর ফলে সি ফোল্ডারে কিছু টেম্প ফাইল বা আক্ষরিক অর্থে আবর্জনা জমা হয়। নিয়মিত টেম্প ফাইল পরিষ্কার না করলে আপনার কম্পিউটার দিন দিন স্লো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

দুর্বল র‍্যামঃ কম্পিউটার স্পিডের জন্য সবচেয়ে বড় কারন গুলোর মধ্যে র‍্যাম ও অন্যতম। কারন আপনি যখন কোন সফটোয়্যার ওপেন করবেন তা মুলত র‍্যাম এর সাহায্যে ওপেন হয়। তাই আপনার ল্যাপটপের স্পিড কম হলে এর একটি কারন হতে পারে পর্যাপ্ত র‍্যাম না থাকাক অথবা দুর্বল র‍্যাম ব্যবহার করা।

অনেকগুলো ট্যাব একসাথে খুলে রাখাঃ ল্যাপটপে ব্রাউজিং আমরা সবাই করি। ব্রাউজারে একইসাথে অনেকগুলো ট্যাব খুলে রাখলে র‍্যামের উপর চাপ লাগে। আর তখন ই আপনার স্পিড লোপ পায়।

অটো স্টার্ট আপ এপ্লিকেশনঃ কিছু কিছু এপ্লিকেশন আছে যা প্রতিবার ল্যাপটপ ওপেন করলেই ব্যাকগ্রাউন্ডে অটো ওপেন হয়ে থাকে আপনি ব্যবহার করুন বা নাই করুন। এই অটো স্টার্টআপ এপ্লিকেশনগুলো আপনার ল্যাপটপের স্পিডের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে ও ল্যাপটপ স্লো করে দেয়।

রিসাইকেল বিন খালি না করাঃ আমরা ল্যাপটপ থেকে যখন ই কোন ফাইল ডিলিট করি সব কিছু একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রিসাইকেল বিনে জমা থাকে। আর রিসাইকেল বিন হচ্ছে সি ড্রাইবের একটা অংশ। অর্থাৎ আপনি যা ই ডিলেট করুন না কেনো তা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিড্রাইভের জায়গা দখল করে থাকে। তাই নিয়মিত রিসাইলেক বিন ক্লিন না করাও হতে পারে ল্যাপটপ স্লো হওয়ার অন্যতম একটি কারন।

এতক্ষন আমরা জানলাম ল্যাপটপ কি কি কারনে স্লো হতে পারে। এখন আমরা জানবো ল্যাপটপ স্লো হলে করণীয় কি। অর্থাৎ আপনার ল্যাপটপ হ্যাং হলে করণীয়।

ল্যাপটপ ফাস্ট করার উপায়

এসএসডিঃ যেমনটা আমরা ইতঃপূর্বে বলেছি ল্যাপটপ স্লো হওয়ার প্রধান কারন গুলোর মধ্যে একটি হলো হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ (HDD) ব্যবহার করা। তাই আপনার ল্যাপটপ যদি স্লো হয় সেক্ষেত্রে আপনি আজই সলিড স্টেট ড্রাইভ (SSD) লাগিয়ে নিতে পারেন। বর্তমানে অধিকাংশ ল্যাপটপে SSD এর জন্য আলাদা স্লট থাকে। অর্থাৎ আপনি চাইলে SSD কে আপনার প্রাইমারি মেমোরি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন একইসাথে HDD সেকেন্ডারি মেমোরি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

সি ড্রাইবে পর্যাপ্ত যায়গা রাখুনঃ সি ড্রাইভে মূলত ল্যাপটপের সিস্টেম ফাইল বা প্রোগ্রাম ফাইল গুলো জমা থাকে। যেমন ডেস্কটপ, রিসাইকেল বিন এইসব ই সি ড্রাইভের থেকে মেমরি দখল করে। এজন্য সিড্রাইভে যত বেশি স্পেস থাকবে আপনার ল্যাপটপ তত ভালো পারফম করবে। তাই ল্যাপটপ স্লো হলে এখন ই আপনার সি ড্রাইভের স্পেস চেক করুন এবং প্রয়জনে স্পেস বৃদ্ধি করুন।

Capture
ডিস্ক ক্লিন করার নিয়ম

নিয়মিত ডিস্ক ক্লিন করুনঃ আপনার লোকাল ডিস্ক বা সি ড্রাইভে গিয়ে রাইট বাটনে ক্লিক করুন। এরপর নিচে Propertiesঅপশনে ক্লিক করুন। এরপর ছবিতে দেখানো বক্সের মত একটি কমান্ড বক্স ওপেন হবে। এরপর Disk Cleanup এ ক্লিক করুন।

এভাবে কিছুদিন পর পর সি ড্রাইভ ক্লিন করুন। এতে আপনার সি ড্রাইভে অপ্রয়োজনীয় ট্র্যাস বা আবর্জনা থাকবে না আর ল্যাপটপের স্পিড কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাবে।

temp
টেম্পফাইল ডিলিট

নিয়মিত টেম্পফাইল ডিলিট করুনঃ প্রত্যেকদিন ল্যাপটপ ব্যবহারের ফলে সি ড্রাইভে কিছু টেম্পরারি জাংক ফাইল জমা হয় যা আপনার ল্যাপটপের স্পিড হ্রাস করে। ল্যাপটপে নিয়মিত টেম্পোরারি জাংক ফাইল বা টেম্প ফাইল ক্লিন করলে ল্যাপটপ তুলনা মুলক ফাস্ট কাজ করবে।চুলন দেখে নেয়া যাক কিভাবে টেম্প ফাইল ডিলিট করবেন।

  • Windows key + R” প্রেস করুন।
  • ছোট পপ আপ কমান্ড বক্স এ  %temp% এই টেক্সট টি পেস্ট করে ওকে বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর সবগুলো টেম্প ফাইল সিলেক্ট করে ডিলিট বাটনে ক্লিক করে ডিলিট করে দিন।

রিসাইকেল বিন নিয়মিত খালি করুনঃ নিয়মিত রিসাইকেল বিন ক্লিন করুন। যেমনটা উপরে আলোচনা করেছি রিসাইকেল বিন সি ড্রাইভে জায়গা দখল করে। তাই নিয়মিত রিসাইকেল বিন ক্লিন করলে আপনার ল্যাপটপের স্পিড কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।

msconfig task manager

স্টার্ট আপ এপ্লিকেশন ডিসেবল করুনঃ কিছু এপ্লিকেশন আছে যেগুলো ল্যাপটপ ওপেন করলে ব্যাকগ্রাউন্ডে ওপেন হয়ে যায় এবং আপনার ল্যাপটপের র‍্যাম কনজিউম করতে থাকে। অর্থাৎ আপনি ব্যবহার করুন বা না করুন কিছু এপ্লিকেশন ব্যকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এতে করে আপনার ল্যাপটপের স্পিড কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। চলুন দেখে নেই কিভাবে স্টার্ট আপ এপ্লিকেশন গুলো ডিসেবল করবেন।

  • প্রথমে Windows key + R প্রেস করুন
  • কমান্ড বক্সে msconfig টেক্সট পেস্ট করুন।
  • এরপর সিস্টেম কনফিগারেশন নামের একটা পপ আপ বক্স ওপেন হবে Startup অপশনে ক্লিক করুন।
  • Open task manager এ ক্লিক করুন।
  • তারপর এপ্লিকেশনের লিস্ট থেকে অপ্রজনীয় ও Start-up impact থেকে High লিখা এপ্লিকেশন গুলো সিলেক্ট করে Disable করে দিন।

পর্যাপ্ত ও ভালো মানের র‍্যাম ব্যবহার করুনঃ যেমনটা আমরা উপরে আলোচনা করেছি ল্যপটপের স্পিডের জন্য র‍্যাম খুবই গুরুত্ত্বপূর্ন। অধিকাংশ ল্যাপটপে ৪জিবি র‍্যাম থাকে এবং এক্সটা র‍্যাম স্লট থাকে। যদি র‍্যামের এক্সট্রা স্লট থাকে তাহলে আমি সাজেস্ট করবো এক্সটা একটা ৪ জিবি র‍্যাম লাগিয়ে নিন। এতে করে আপনার ল্যাপটপের স্পিড বৃদ্ধি পাবে আশা করি।

পেইড এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারঃ উইন্ডোজ ১০ এ “উইন্ডোজ সিকিউরিটি” নামের ডিফল্ট সিকিউরিটি সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও কিছু ভাইরাস অনেক সময় ল্যাপটপের স্পিড হ্রাস করে। এজন্য আপনি চাইলে যেকোন একটি পেইড এন্টিভাইরাস এপ্লিকেশন ল্যাপটপে ইন্সটল করতে পারেন। বাজারে বেশ কিছু পেইড সফটওয়্যার পাওয়া যায় তারমধ্যে অন্যতম হলো

সতর্কতাঃ অনলাইনে বেশ কিছু ফ্রি এন্টিভাইরাস এপ্লিকেশন পাওয়া যায় কিন্তু ওইসব এপ্লিকেশন ব্যবহার না করাই শ্রেয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এইসকল ফ্রি এপ্লিকেশন উপকারের চেয়ে ক্ষতি ই করে এবং উলটো আপনার ল্যাপটপের স্পিড হ্রাস করে।

কুলিং ফ্যান ব্যবহার করুনঃ ল্যাপটপের কুলিং ফ্যান ব্যবহারে ল্যাপটপের স্পিড সরাসরি বৃদ্ধি না পেলেও পরোক্ষভাবে ল্যপটপের বেটার পারফরমেন্স এ সাহায্য করে। ল্যাপটপ কুলার দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

শেষ কথাঃ

উপরের আলোচনাতে ল্যাপটপ স্লো হওয়ার কারন ও ল্যাপটপ ফাস্ট করার যে উপায়গুলো বর্ননা করা হয়েছে, একজন ইউজার যদি সেগুলো ভালোভাবে ফলো করে তাহলে আশা করা যায় ল্যাপটপের পারফরমেন্স কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।

আরো পড়ুনঃ

Easy Teching

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Reply