থাইরয়েড কি ভালো হয়? থাইরয়েড এর মাত্রা কত

থাইরয়েড কি ভালো হয়

যারা থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন তাদের মনে একটি প্রশ্ন থাইরয়েড কি ভালো হয়? থাইরয়েড সমস্যা বর্তমান ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই রোগটি তে পুরুষের তুলনায় মহিলারা বেশি ভুগে থাকেন। বর্তমান বাংলাদেশের ডায়াবেটিসের পরে থাইরয়েড রোগের প্রবণতা বেশি।

নির্দিষ্ট কিছু খাবার ও নিয়ম ফলো করলে থাইরয়েডের সমস্যা সম্পূর্ন রূপে ভালো হয়। 

থাইরয়েড কি?

থাইরয়েড হল আমাদের একটি গ্রন্থি যা আমাদের গলার সামনের দিকে অবস্থিত। এই গ্রন্থি থেকে কিছু প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন মানবদেহের বিপাক সহ আরো বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই হরমোন তৈরির জন্য এই গ্রন্থিটির প্রয়োজনীয় পরমাণে আয়োডিনের দরকার হয়।

শারিরীক বিভিন্ন জটিলতার কারনে কিংবা পুষ্টির অভাবে থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আজকে আমরা থাইরয়েড কি ভালো হয়? থাইরয়েড এর মাত্রা কত এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানবো।

আরো পড়ুন – শিশুদের বমির কারণ, ছোট বাচ্চাদের বমির ঔষধ

থাইরয়েড কমানোর উপায়

থাইরয়েড কি ভালো হয়? এক কোথায় হ্যাঁ থাইরয়েড ভালো হয় তবে কিছু উপায় অবলম্বন করার মাধ্যমে থাইরয়েড থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।থাইরয়েড কমানোর উপায় অনেক আছে । আপনাদের যাদের থাইরয়েড সমস্যা আছে অথবা যারা থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন তারা চাইলে কিছু সঠিক নিয়ম কানুন ও ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী চলাফেরা এবং খাওয়া-দাওয়ার ভিত্তিতে থাইরয়েড কমাতে পারবেন।

এই উপায় গুলো সম্পর্কে জেনে গেলে মোটামুটি থাইরয়েড কি ভালো হয় এ প্রশ্নের উত্তর আপনারা খুব সহজে পেয়ে যাবে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক থাইরয়েড কমানোর উপায় গুলো সম্পর্কে

  • আপনারা যারা থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন তারা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্যের আলোতে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকুন অথবা হাঁটাচলা করুন। সকালের রোদে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকে যা শরীরের জন্য অনেক উপকারী।
  • সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করার অভ্যাস করুন ব্যায়াম করলে শরীরের মেটাবলিজম ঠিক থাকে এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • আয়োডিনযুক্ত খাবার গ্রহণের চেষ্টা করুন। সাধারণত থাইরয়েড সমস্যা হয়ে থাকে আয়োডিনের অভাবে। তাই দেহের প্রয়োজনীয় আয়োডিন যোগান দিতে অবশ্যই আয়োডিনযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন।
  • অ্যাপেল সিডার ভিনেগার শরীরের অ্যাসিড অ্যালকালাইন ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যা থাইরয়েড সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। তাই ডাক্তারের নিয়মিত আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
  • জীবনযাপন এর মান এ পরিবর্তন আনতে হবে। মোটেও অগোছালো জীবন যাপন করা যাবে না। অর্থাৎ সব কাজ গুলো যথানিয়মে যথাসময়ে করতে হবে। ঘুমানোর সময় ঘুমাতে হবে, খাবার সময় খেতে হবে, ব্যায়াম করার সময় ব্যায়াম করতে হবে ইত্যাদি।
  • থাইরয়েড কমানোর জন্য কিছু খাবার পরিহার করতে হবে যেমন বাঁধাকপি ফুলকপি ব্রোকলিঃ ইত্যাদি জাতীয় খাবার গুলো। এই জাতীয় খাবার গুলো কাঁচা খেলে থাইরয়েড গ্রন্থি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

তাই থাইরয়েড গ্রন্থি কমানোর উপায় হিসেবে আপনাকে অবশ্যই বিষয়গুলো বিবেচনায় আনতে হবে। তাহলেই কেবল থাইরয়েড থেকে মুক্তি মিলবে।

থাইরয়েড কি ভালো হয়

থাইরয়েড কি খেলে ভালো হয়

থাইরয়েড কি ভালো হয়? হ্যাঁ থাইরয়েড থেকে নিজেকে মুক্ত করতে অবশ্যই খাবার-দাবারে পরিবর্তন আনা উচিত। থাইরয়েড কি ভালো হয় এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে সঠিক খাবার খাওয়া যে খাবারগুলো খেলে থাইরয়েড সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব সেই খাবারগুলো হচ্ছে

সামুদ্রিক মাছ

সামুদ্রিক মাছ Thyroid problem সমাধানের বেশ কার্যকরী একটি উপকরণ। কেননা সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমাণ আয়োডিন থাকে যা শরীরের জন্য অনেক উপকারী। আর যেহেতু আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড হয়ে থাকে তাই তাই প্রতিদিন সামুদ্রিক মাছ খেলে থাইরয়েড সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যাবে।

তামা ও কপার যুক্ত খাবার

তামা ও কপার যুক্ত খাবার থাইরয়েড গ্রন্থি ক্রিয়া ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন খাবারের তালিকায় একজন থাইরয়েড রোগীর জন্য তামা ও কপার যুক্ত খাবার রাখা জরুরি।

বাদাম বা বীজ জাতীয় খাবার গ্রহণ

একজন থাইরয়েড রোগীকে ডাক্তার সব সময় বাদাম জাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বাদাম অথবা বীজ জাতীয় খাবারে থাকে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি উপাদান বিশেষ করে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন বি ,সেলেনিয়াম , ভিটামিন সি , অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট , পটাশ সহ অনেক শক্তিশালী পুষ্টিগুণ যা দেহের জন্য খুবই উপকারী এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার।

এই খাবারগুলো খেলে মোটামুটি থাইরয়েড সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যায়। তবে অবশ্যই থাইরয়েড সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর থাইরয়েড এর মাত্রা বুঝে মেডিসিন লিখে দেবে এবং চলাফেরা ও খাওয়া-দাওয়ার নিয়ম কারণ বুঝিয়ে দিবে।

থাইরয়েড রোগের ঔষধ

সাধারণত যখন থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা একদম কমে যায় তখন থাইরয়েড রোগ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়। থাইরয়েড রোগ হয়ে গেলে মুখে খাওয়ার বড়ি লেভোথাইরক্সিন এর মাধ্যমে হরমোনের ঘাটতি পূরণ করা হয়। তবে ওষুধ টি খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম আছে যা মেনে ঔষধ সেবন করতে হবে। ঔষধ টি নিয়ম মেনে সেবন না করলে কোন কার্যকর ফল পাওয়া যাবে না।

তাই অবশ্যই ওষুধ খাওয়ার পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে হবে। আমরা অনেক সময় অনেক কৌতূহলবশত ডাক্তারকে প্রশ্ন করে থাকে থাইরয়েড কি ভালো হয়। ডাক্তাররা সব সময় একটাই পরামর্শ দিয়ে থাকেন সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং শৃংখল জীবনযাপন এর মাধ্যমে থাইরয়েড থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

থাইরয়েড নরমাল কত

একজন বয়স্ক মানুষের শরীরে আয়োডিন থাকে 15 থেকে 20 মিলিগ্রাম। যার মধ্যে থাইরয়েড গ্রন্থিতে থাকে 70 থেকে 80 শতাংশ। মানবদেহে থাইরয়েড হরমোন গুলোর মধ্যে থাইরক্সিন অর্থাৎ T4 এর পরিমান অর্ধায়ু T3 এর চেয়ে বেশি। মানবদেহে রক্তের T4 ও T3 এর অনুপাত 14:1 থেকে 20:1 থাকে।

আরো পড়ুন – রক্ত আমাশয় রোগের ঔষধ, আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা

থাইরয়েডের লক্ষণ

থাইরয়েড সমস্যা হলে থাইরয়েড রোগীর ক্ষেত্রে কিছু লক্ষণ অথবা উপসর্গ দেখা যায় সেই লক্ষনগুলো হচ্ছে

  • অতিরিক্ত ওজন কমে যাওয়া অথবা হঠাৎ করে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া দুটি কারণ যদি কারো মাঝে থাকে তাহলে বুঝতে হবে থাইরয়েড সমস্যা হতে পারে।
  • থাইরয়েড এর ক্ষেত্রে খুব অল্পতেই ক্লান্তি অনুভূত হয়। যদি কারো শারীরিক ক্লান্তি অনুভব হয় তাহলে বুঝতে হবে থাইরয়েড সমস্যা হতে পারে।
  • কারো যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ঠান্ডা লাগে অর্থাৎ অল্প শীত হলেও তার কাছে মনে হয় খুব বেশি ঠান্ডা লাগতেছে। এ ধরনের লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে বুঝতে হবে থাইরয়েড সমস্যা হতে পারে।
  • যদি কারো পেশী ও জয়েন্ট ব্যথা ও যন্ত্রণার অনুভূতি হয় তাহলে বুঝতে হবে থাইরয়েড সমস্যা হতে পারে।
  • যদি কারো খুব বেশি পরিমাণে চুল পড়ে এটাও থাইরয়েড লক্ষণ বলা হয়।
  • কোন কিছুতে মনোযোগ দিতে না পারায় থাইরয়েড সমস্যার একটি লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সমস্যা হলে মানসিক অবসাদ হয় এবং সহজে সবকিছু ভুলে যায়।
  • ঋতুস্রাবের সমস্যা হতে পারে যদি থাইরয়েড গ্রন্থি এর কার্যক্রম সঠিকভাবে কাজ না করে। অনিয়মিত ঋতুস্রাব হলে থাইরয়েডের লক্ষণ বলে বিবেচনা করা হয়।

থাইরয়েড হরমোন এর কাজ কি

থাইরয়েড হরমোন এর প্রধান কাজ হচ্ছে স্নায়ু পরিপক্কতা। সাধারণত থাইরয়েড হরমোন সমস্যা হলে গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় গর্ভের বাচ্চা বোকা হতে পারে অথবা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হতে পারে। এছাড়াও থাইরয়েড হরমোনের অন্যতম কাজ হচ্ছে শরীরের বিপাকীয় হার বা বেসাল মেটালিক রেট বাড়ানো।

থাইরয়েড হলে কি কি সমস্যা হয়

থাইরয়েড হলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু সমস্যা হচ্ছে

  • প্রচন্ড পরিমাণ গরম লাগা
  • পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা
  • হাত পা ঘামা
  • খাবারের রুচি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া তারপরেও ওজন কমে যাওয়া।
  • ঘন ঘন পায়খানা হওয়া
  • ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া
  • ক্ষুধামন্দা
  • চুল পড়া

এছাড়াও আরও অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে থাইরয়েড সমস্যা হলে।

থাইরয়েড এর মাত্রা কত

সাধারণত আয়োডিনের অভাবে T4 ও T3 এর উৎপাদন কমে যায় এবং থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গলগন্ড রোগের সৃষ্টি হয়।মানবদেহে থাইরয়েড হরমোন গুলোর মধ্যে থাইরক্সিন অর্থাৎ T4 এর পরিমান অর্ধায়ু T3 এর চেয়ে বেশি। মানবদেহে রক্তের T4 ও T3 এর অনুপাত 14:1 থেকে 20:1 থাকে।

মন্তব্য

আজকের আলোচনা করার চেষ্টা করেছে থাইরয়েড কি ভালো হয়? এই সম্পর্কে এবং থাইরয়েড কমানোর উপায়। এছাড়া থাইরয়েড কি খেলে ভালো হয়। থাইরয়েডের লক্ষণ ও থাইরয়েড হরমোনের কাজ কি এবং থাইরয়েড এর মাত্রা কত এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি।

আশা করি আজকে আর্টিকেলটি আপনাদের ভাল লেগেছে। ভালো লাগলে অবশ্যই আপনাদের বন্ধু অথবা প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আর্টিকেলটি সম্পর্কে জানার থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন আমরা খুব দ্রুত আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

আরো পড়ুন – সর্দি কাশি গলা ব্যথার ওষুধ ছাড়া কিভাবে ভাল করবেন

Easy Teching

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Reply