ldtax gov bd – নতুন নিয়মে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান

ldtax gov bd

জমি থাকলে জমির কর দিতে হবে সেটাই সাধারণত নিয়ম। জমির কর প্রদানের মধ্য দিয়ে জমির প্রতি মালিকের অধিকার শক্ত এবং মালিকানা প্রদানের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সব জমির কর দিতে হয় কিনা বা উন্নয়নের কর দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে অনেকেই জানেনা। ldtax gov bd – নতুন নিয়মে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের নিয়ম  প্রদান করা নিয়ম কি সে সম্পর্কে অনেকে গুগলে সার্চ করে থাকে।

আজকে আমরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। আশা করছি আর্টিকেলটি ভালো লাগবে।

আরো পড়ুন – BDTGame App Download and Earn ৳300000 Monthly

 ভূমি উন্নয়ন কর কি?

কোন জমি ভোগ দখলের সুবিধা গ্রহণের জন্য সরকারকে প্রতি শতাংশ জমির জন্য বছর ভিত্তিক যে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রদান করতে হয় সেটাই হলো ভূমি উন্নয়ন কর বা ldtax gov bd। ভূমি উন্নয়ন কর দেয়ার পর জমির দাতা দাখিলা পাওয়ার অধিকার লাভ করে। এই দাখিলা জমির মালিকানা প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ দলিল যা জমির নাম জারি বা কেনাবেচা এমনকি আরো অনেক ক্ষেত্রে দরকার হতে পারে।

আরো পড়ুন – BDTGame App Download and Earn ৳300000 Monthly

জমির কর প্রদানের সুবিধা

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ জমির কর আদায়ের সুবিধা সম্বন্ধে বিশেষভাবে জানেনা। যার কারণে এসব বিষয়ে তারা খুব অবহেলা করে কিন্তু তারা জানে না জমির উন্নয়ন কর প্রদান করলে কি কি সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারে। খাজনা প্রদান করলেন অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় সেগুলো হলো-

১। ভূমি উন্নয়ন কর্পোরেশনের জমির দাখিলা পাওয়া যায়।

২। দাখিলা মালিকানা প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে।

৩। ভুমি উন্নয়ন কর নির্মিত প্রদান করলে রেকর্ড হালনাগাদ থাকে ভুঁয়ার রেকর্ডের সুযোগ নিতে পারেনা।

৪। অনেক সময় একজন আরেকজনের গোপনে নাম রেকর্ড করে নেয় জমির মালিক নিজের জন্য খোঁজ খবর না রাখার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেনা।

৫। ভূমি উন্নয়ন কর পরিষদ থাকলে জমি নিলাম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

আরো পড়ুন – আকিকার দোয়া – আকিকা দেওয়ার নিয়ম

ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনার হার

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রচলিত ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনার হার হল-

কৃষি জমির ক্ষেত্রে- ২৫ বিঘা পর্যন্ত ভুমির উন্নয়ন কর বা খাজনা মওকুফ করে দিয়েছে। ২৫ বিগার অধিক হতে ১০ একর পর্যন্ত জমির জন্য প্রতি শতাংশ জমির জন্য ৫০ পয়সা করে দিতে হয়। দশ একরের ঊর্ধ্বে হলে প্রতি শতাংশ জমির জন্য এক টাকা হারে খাজনা দিতে হয়।

চা বাগান রাবার বাগান ফুলের বা ফলের বাগান এর ক্ষেত্রে- চা বাগান বা ফুলের বাগান এক একরের উর্ধ্বে কোন জমিতে ফলের বাগান কিংবা ফুলের বাগান থাকলে সেসব জমির ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশ জমির জন্য এক টাকা দশ পয়সা হারে খাজনা দিতে হয়।

পল্লী এলাকার আবাসিক জমির ক্ষেত্রে- ১৯৯০ সালের ভূমির ব্যবস্থাপনা মেনুএলে ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পুরুলিয়া এলাকায় বসবাসকারী কৃষি পরিবারের চাষের জন্য এবং বসতবাড়ি কৃষি জমি হিসেবে গণ্য করে। কৃষি হারে ভূমি উন্নয়ন করা আদায় করতে হবে ১৯৯০ সালে ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল ২৭ অনুচ্ছেদের মধ্যে। পল্লী এলাকার পাকা ভিটে বাড়ির জন্য প্রতি শতক পাঁচ টাকা হারে খাজনা দিতে হবে।

শিল্প বাণিজ্যিক এলাকার কর- শিল্প বাণিজ্যিক কাজ ব্যবহৃত ভূমির জন্য করের হার যেভাবে নির্ধারণ করা হবে তাহলেও যে পরিমাণ জায়গা শিল্প বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার হয় তার খাজনা বাণিজ্যক ভাবে আদায় করতে হবে। যে পরিমাণ আবাসিক কাজে ব্যবহৃত হবে তার খাজনা বা সেখানে ব্যবহৃত হবে প্রকৃত জমির কর। কৃষি হারে এক টাকা প্রতি শতাংশ আদায় করতে হবে।

পোল্ট্রি ফার্মের কর- সরকারিভাবে সরকারি পর্যায়ের স্থাপিত বিভিন্ন আকারের ক্ষুদ্র প্রান্তিক চাষী পর্যায়ের উপর নির্ভরশীল হাঁস মুরগির খামার বা ডেইরি ফার্মের জন্য ব্যবহূত করা মুরগির খামার স্থাপন করা হলে সেই জন্য পরিমাণ যাই হোক কর প্রদান করতে হবে।

হস্তচালিত তাতের কর-  ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা মওকুফের আওতাভুক্ত কৃষি পরিবার যদি কৃষি কাজের অতিরিক্ত পেশা হিসেবে বসতভিটার ভিতর পাঁচটির কম সংখ্যক হস্ত চালিত তাত ব্যবহার করে কাপড় তৈরি করে তাহলে সে ক্ষেত্রে তাকে ভূমি উন্নয়ন করা দিতে হবে না। যদি কোন তাত নিজে বসতবাড়ির অভ্যন্তরে বিভোগ সংলগ্ন হয় এবং তাদের সংখ্যা যদি সর্বাধিক পাঁচটি হয় তাতগুলো যদি সম্পূর্ণ হস্তচালিত হয় তাহলে তার শিল্পপতির জমির উপর অবস্থিত উক্ত জমির কর আবাসিক নিয়মে আদায় করতে হবে।

অনলাইনে ভুমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করার নিয়ম

ভুমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য বাংলাদেশের ভূমি মন্ত্রণালয় একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে। প্রথমে ভূমি মালিক কে এই অ্যাপের সঙ্গে নিজেকে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধিত হলে তার পরবর্তীতে আর নিবন্ধন প্রয়োজন হবে না। তিনটি প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে।

১। land.gov.bd idtax.gov.bd এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয় পত্র জন্ম তারিখ ও মোবাইল ফোন নাম্বার দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।

২। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টারে

৩। অথবা ১৬ ১ ২২ নম্বরে ফোন করে এনআইডি নম্বর জন্ম তারিখ ফোন নম্বর এবং জমি তথ্য প্রদান করে যে কোন ইউনিয়ন ডিজিটাল অফিসে এনআইডি কার্ড জন্ম তারিখ এবং খতিয়ান নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধনের পরে পোর্টালে লগইন করে অথবা ইউনিয়ন ডিজিটাল অফ পিসিকে ভূমির উন্নয়ন কর দিতে পারবেন। এ সময় বিকাশ বা নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে টাকা পরিশোধ করাও যাবে।

ভূমিকর পরিষদের অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি

১। যেকোনো ব্রাউজার হতে www.idtx.com  এ যেতে হবে.

২। তারপর নাগরিক কর্নারে যেতে হবে সেখান থেকে নাগরিক নিবন্ধন থেকে মোবাইল নাম্বার এবং এন আইডি যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপে ক্লিক করতে হবে।

৩। নাগরিক নিবন্ধন মোবাইলে নিবন্ধনে ব্যবহৃত মোবাইলের ওটিপি যাচাই করে একটি ছয় ডিজিটাল পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে।

৪। তারপরে প্রোফাইলে প্রবেশ করে খতিয়ান সংযুক্ত হতে হোল্ডিং এর তথ্য আপলোড করতে হবে।

৫। আপলোড হয়ে গেলে ইউনিয়নের ভূমি অফিস থেকে আপলোড হোল্ডিং টি সমন্বয় করে নিতে হবে।

৬। হোল্ডিং সমন্বয় হয়ে গেলে হোল্ডিং থেকে বিস্তারিত যেতে হবে।

৭। সেখান থেকে অনলাইন পেমেন্ট অপশন থেকে কর্পোরেশন করতে হবে।

৮। খাজনা পরিষদ হয়ে গেলে দাখিল অপশন থেকে দাখিলা পাওয়া যাবে এবং

৯। সেখান থেকে চাইলে প্রিন্টও ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

ই পেমেন্ট করতে এনআইডি যাচাই করুন

আপনি চাইলে পেমেন্ট পোর্টালে এনআইডি ব্যবহার করে সরাসরি পেমেন্ট করে দাখিলা পেতে পারেন এবং হোল্ডিং সহ মালিকের প্রোফাইলে লগইন করে দাখিলা ডাউনলোড করতে পারবেন। অথবা যথাযথ প্রত্যয়ন অবস্থায় রশিদ অফিস থেকে দাখিলা করেও সংগ্রহ করতে পারবেন। ভূমি উন্নয়ন কর অনলাইনে দেখার জন্য আপনাকে www.idtx.com  নিবন্ধন করতে হবে এবং আপনার প্রোফাইলের নির্দেশনা বলে সে অনুযায়ী খতিয়ান তথ্য দিয়ে আপনি যাচাই করতে পারবেন। খাজনা জমা হয়েছে কিনা সেটাও দেখতে পারবেন।

বিকাশ বা রকেট দিয়ে ভূমি উন্নয়ন কর পরিষদ করার নিয়ম

প্রথমবারই ভূমি অফিসে গিয়ে ভূমি কর অনলাইনে পরিশোধ করলে প্রথমবারের মতো আপনার মোবাইল নম্বর ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ঠিক করে দিবে। এবং আপনি পরবর্তীতে মোবাইল নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে বকেয়া বিল অনলাইন এ নিজেই পরিশোধ করতে পারবেন। এর জন্য মোবাইল বা কম্পিউটারে অফিশিয়াল লিংকে ঢুকে লগইন করতে হবে এবং পেমেন্ট অপশনে গিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পেমেন্ট করতে হবে।

মৃত ব্যক্তির নামে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করার পদ্ধতি

ভূমি উন্নয়ন কর পরিষদের জন্য মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদের নাম জারি করে নিতে হবে। টোকেন হচ্ছে একটি হোল্ডিং এর ইউনিক নাম্বার যা দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ভূমি উন্নয়নের কর প্রদান করা যাবে। হোল্ডিং এর বিস্তারিত অপশনে ক্লিক করে টোকেন জেনারেট অপশনের মাধ্যমে টোকেন জেনারেট করে নিতে হবে।

ldtax gov bd

মন্তব্য

আজকে আমরা ldtax gov bd কি এবং নতুন অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর দেয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি অনলাইনে ভুমি কর নিয়ম সম্পর্কে খুব সহজভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি। আর্টিকেলটি সম্পর্কে আপনাদের কোন মন্তব্য মতামত পরামর্শ থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।

আম্রা রিপলাই দেওয়ার চেষ্টা করব। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার ফ্রেন্ডস এবং ফ্যামিলির সাথে শেয়ার করতে পারেন। প্রতিদিন নতুন নতুন সব আপডেট নিউজ পেতে আমাদের ওয়েবসাইট বুকমার্ক করে রাখতে পারেন।

আরো পড়ুন – 

Easy Teching

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Reply