কম্পোজিট ভেনিয়ার কি? কম্পোজিট ভেনিয়ার খরচ কত

কম্পোজিট ভেনিয়ার খরচ

কম্পোজিট ভেনিয়ার কি? ফাঁকা দাঁতের চিকিৎসা করতে কম্পোজিট ভেনিয়ার খরচ কি রকম হতে পারে? এটি মূলত নির্ভর করে দাঁতের কন্ডিশন এর ওপর অর্থাৎ বিভিন্ন দাঁতের অবস্থার উপর ভিত্তি করে কম্পোজিট ভেনিয়ার খরচ বিভিন্ন রকম হতে পারে।

আজকে আমরা আপনাদেরকে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব কম্পোজিট ভেনিয়ার খরচ কি রকম হতে পারে। এছাড়াও কম্পোজিটি ভেনিয়ারের সুবিধা অসুবিধা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা থাকবে আজকের ব্লগে।

[irp]

কম্পোজিট ভিনিয়ার কি

আপনি যদি ফাঁকা দাঁতের চিকিৎসা করতে চান তাহলে কম্পোজিট ভিনিয়ার এর বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। কম্পোজিট ভিনিয়ার হচ্ছে এমন এক ধরনের পদার্থ বা পাতলা আবরন যা ফাঁকা দাঁতের উপর বসানো হয় ।অর্থাৎ আপনার দাঁতের কালার ম্যাচিং করে অথবা দাতে কতটুকু অংশ ফাঁকা আছে সেই দিক বিবেচনা করে যে পাতলা প্রলেপ দেওয়া হয় এটাই মূলত কম্পোজিট ভিনিয়ার।

কম্পোজিট ভিনিয়ার প্রয়োগে আপনার দাঁত একদম প্রাকৃতিক দাঁতের মতো সৌন্দর্য পরিলক্ষিত হবে। কম্পোজিট ভিনিয়ার ট্রিটমেন্ট করার পর কারো বোঝার ক্ষমতা থাকবে না যে আপনার দাঁতে কোন চিকিৎসা করা হয়েছে। অর্থাৎ কম্পোজিট ভিনিয়ার এর মাধ্যমে আপনার মুখে যেমন সুন্দর হাসি ফিরে আসবে পাশাপাশি দাঁতের গঠনাকৃতি ও সৌন্দর্য ফিরে আসবে।

কম্পোজিট ভিনিয়ার কেন করে?

দাঁত মানুষের সৌন্দর্যের একটি অংশ বলা চলে কেননা মানুষ যখন হাসে তখন তার হাসির মাধ্যমে তার ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। সেই দাঁত যদি ফাঁকা ভাঙ্গা অথবা দাগ যুক্ত হয়ে থাকে তাহলে চিন্তার কোন শেষ থাকে না। তবে যেকোন সমস্যার সমাধান অবশ্যই থাকে। আর দাঁতের ফাঁকা অথবা ভাঙ্গা দূর করার জন্য সবথেকে কার্যকরী উপায় হচ্ছে দাতে কম্পোজিট ভিনিয়ার লাগানো।

যাদের দাঁত ফাঁকা, দাঁত যুক্ত, ভাঙ্গা অথবা চাপা এরকম থাকে তারাই মূলত সাধারণত কম্পোজিট ভিনিয়ার লাগাতে পারবে।

কম্পোজিট ভিনিয়ার কত ধরনের

কম্পোজিট ভিনিয়ার মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে…

  1. ডিরেক্ট কম্পোজিট ভিনিয়ার
  2. ইনডিরেক্ট কম্পোজিট ভিনিয়ার
  3. পোর্সেলিন ভিনিয়ার

১। ডিরেক্ট কম্পোজিট ভিনিয়ার মূলত সরাসরি দাঁতের উপর প্রয়োগ করা হয় অথবা একজন টেকনিশিয়ান ল্যাব থেকে দাঁতের সঠিক মাপ নিয়ে তৈরি করে নিয়ে এসে দাঁতের সাথে যুক্ত করে দিয়ে থাকেন।

২। ইনডিরেক্ট কম্পোজিট ভিনিয়ার মূলত একটি আবরণ বিশেষ এটি দাঁতের সৌন্দর্য রক্ষা করার জন্য সরাসরি দাঁতের ওপর লাগিয়ে দেওয়া হয়।

৩। পার্সোনাল ভেরিয়ার মূলত রজন অথবা আঠালো জাতীয় পদার্থ দিয়ে যুক্ত করা হয়ে থাকে। যাতে করে দাঁতের অস্থায়ী সৌন্দর্য বজায় থাকে।

[irp]

কম্পোজিট ভিনিয়ার খরচ

যেকোনো ডেন্টাল কেয়ার এ কম্পোজিট ভেনিয়ার খরচ হয় 4500 টাকা থেকে 5000 টাকার মতো। তবে বিভিন্ন ডেন্টাল কেয়ার বিভিন্ন রকম দাম নিয়ে থাকেন। সাধারণত কম্পোজিট ভিনিয়ার করার ক্ষেত্রে প্রতি দাঁতের ফাঁকার জন্য 3000 টাকা এবং দুই দাঁত ফাঁকার জন্য 4500 টাকাথেকে 5000 টাকা। 3 দাঁত ফাঁকার জন্য 6000 টাকাথেকে 7000 টাকার মতো লাগতে পারে।

তবে যেহেতু বিভিন্ন ডেন্টাল কেয়ার চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন রকম তাই অবশ্যই কম্পোজিট ভিনিয়ার করার আগে ভালো কোন ডেন্টাল কেয়ার এর সাথে কথা বলে কম্পোজিট ভেনিয়ার খরচ এবং ভিনিয়ার করার নিয়ম সহ যাবতীয় তথ্য জেনে নেবেন।

কম্পোজিট ভিনিয়ার ব্যবহার নিয়ম

  • কম্পোজিট ভিনিয়ার মূলত এমন ভাবে ব্যবহার করা হয় যাতে করে দাঁতের সৌন্দর্য বেড়ে যায় এবং দাঁতের আকার-আকৃতি ঠিক থাকে। তাই কম্পোজিট ভিনিয়ার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডাক্তাররা সর্তকতা অবলম্বন করেন অর্থাৎ দাঁতের কন্ডিশন এর উপর নির্ভর করে কম্পোজিট ভিনিয়ার দিয়ে থাকেন।
  • কম্পোজিট ভেনিয়ার লাগানোর ক্ষেত্রে প্রথমে আপনার দাঁতের আকার আকৃতি ঠিক রাখার জন্য ঠিক সেই আকৃতির একটি ভিনিয়ার সিলেক্ট করে। তারপর ডাক্তার আপনার দাঁতে উঁচু-নিচু অথবা ভাঙ্গা থাকলে তা ঠিক রাখার চেষ্টা করে। পরে কম্পোজিট ভিনিয়ার টি এমনভাবে লাগানো হয় যাতে করে ভিনিয়ার টি সঠিক স্থানে সুন্দরভাবে বসে যায়।
  •  সঠিকভাবে দাঁতের গঠন প্রণালী পর্যবেক্ষণ করে ভিনিয়ার লাগাতে হয়। এবং তিনি এ লাগানোর পর যদি কারো রুট ক্যানেল করার প্রয়োজন হয় সেটাও ডাক্তাররা করে থাকেন।

Composite veneers ব্যবহার করার সুবিধা

যেহেতু Composite veneers খরচ তুলনা মূলক কম তাই দাঁতের অন্যান্য চিকিৎসা গুলোর তুলনায় খরচের দিক বিবেচনা করে ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে কিছু সুবিধা আছে সুবিধাগুলো হচ্ছে

  • কম্পোজিট ভিনিয়ার এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ দাঁতের উপর একটি আবরণ দেওয়া হয়। যার ফলে দাঁতের ফাঁকা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এবং দাতে ন্যাচারালি সৌন্দর্য ফিরে আসে।
  • এই চিকিৎসা টি সময়সাপেক্ষ নয় অর্থাৎ একদিনের মধ্যেই এ চিকিৎসা করা যেতে পারে।
  • ফাঁকা দাঁতের সাথে যদি কারো ভাঙা দাঁত থাকে এই চিকিৎসার মাধ্যমে একসাথে ভাঙা দাঁতের ও চিকিৎসা করা যাবে।
  • কম্পোজিট ভিনিয়ার ট্রিটমেন্ট করার পর এর স্থায়িত্ব 10 থেকে 15 বছর থাকে। এরপর আবার ভিনিয়ার লাগানো যায়।
  • দাঁতের অন্যান্য ট্রিটমেন্ট এর চেয়ে কম্পোজিট ভেনিয়ার খরচ খুবই কম।

কম্পোজিট ভিনিয়ার ব্যবহার করার অসুবিধা

কম্পোজিট ভিনিয়ার ব্যবহার করার যেমন সুবিধা আছে তেমন কিছু অসুবিধাও আছে অসুবিধা গুলো হচ্ছে

  • কম্পোজিট ভিনিয়ার করার পর কিছুদিনের মধ্যে দাঁতের কালার পরিবর্তন হতে পারে। অর্থাৎ হলদেটে ভাব হতে পারে।
  • কম্পোজিট ভিনিয়ার করার পর যেহেতু সম্পূর্ণ একটি ফলস বা নকল দাঁতের রূপ নেয়। তাই আপনি চাইলেও এই দাঁত দিয়ে শক্ত কিছু চিবাতে পারবেন না।
  • কম্পোজিট ভিনিয়ার করার পর পান খাওয়া যাবে না। পান খেলে দাঁতের কালার পরিবর্তন হয়ে লালচে অথবা হলদেটে হতে পারে।

তবে কম্পোজিট ভিনিয়ার ব্যবহার করার পর আপনি যদি কিছু নিয়ম মেনে চলেন তাহলে এসব অসুবিধা থেকে সহজে মুক্তি পাবেন।

কম্পোজিট ভেনিয়ার খরচ

কম্পোজিট ভিনিয়ার করতে কত সময় লাগে

সাধারণত কম্পোজিট ভিনিয়ার এর একটি সুবিধা হচ্ছে এই চিকিৎসা টি খুব সহজে 1 দিনে এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে এই চিকিৎসা পদ্ধতি সেরে ফেলা যায়। তবে দাঁতের কন্ডিশনের উপর নির্ভর করে সময় কিছুটা কম বেশি লাগতে পারে। এছাড়া আপনি কতটি দাঁতের কম্পোজিট করবেন সেটাও একটা বিবেচ্য বিষয়।

তবে সাধারনত একদিনের মধ্যেই এই কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়।

কম্পোজিট ভিনিয়ার ব্যবহারে সর্তকতা

কম্পোজিট ভিনিয়ার ব্যবহারে আপনাকে অবশ্যই সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে কেননা যখন আপনার দাঁতে কম্পোজিট ভিনিয়ার ব্যবহার করা হবে তখন আপনার দাঁত কৃত্রিম দাঁতের মতো রূপ নেবে। তখন আপনি চাইলেও সেই দাঁত দিয়ে শক্ত কিছু চিবাতে পারবেন না। চলুন জেনে নেই কম্পোজিট ভিনিয়ার এর সতর্কতাগুলো সম্পর্কে

  • কম্পোজিট ভিনিয়ার যেহেতু একটি পাতলা আবরণ দাঁতের উপর বসানো হয়। তাই সেই দাঁত দিয়ে মোটেও শক্ত কিছু চিবানো যাবে না।
  • ব্রাশ করার ক্ষেত্রে খুব সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। অর্থাৎ যে দাতে কম্পোজিট ভিনিয়ার লাগানো আছে সেই দাতে ব্রাশ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
  • দাঁতে কোন ভাবে আঘাত লাগানো যাবেনা।

মন্তব্য

আজকে আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করেছি কম্পোজিট ভেনিয়ার খরচ সম্পর্কে। এছাড়াও কম্পোজিট ভিনিয়ার কি? যারা কম্পোজিট ভিনিয়ার লাগাতে পারবে, কম্পোজিট ব্যবহারের সুবিধা, কম্পোজিট ব্যবহারে সর্তকতা ছাড়াও কম্পোজিট ভিনিয়ার খরচের পরিমাণ কি রকম সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি।

আজকের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনাদের বন্ধু অথবা প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আর্টিকেলটি সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট সেকশনে জানাবেন আমরা খুব দ্রুত আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

[irp]

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Comment