You are currently viewing থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা | থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম

থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা | থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম

প্রত্যেকটা গাছের ই নিজস্ব কিছু  গুন থাকে, থানিকুনি পাতা ও তার ব্যতিক্রম নয়। আমাদের আজকের আলোচনায়  থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করব। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক এই বিষয় সর্ম্পকে বিস্তারিত সকল আলোচনা।

থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা (Benefits of Thankuni Leaves)
নিয়মিত ভাবে যদি আপনারা থানকুনি পাতার রস খেতে পারেন। তাহলে কিন্তু আপনারা অনেক উপকার পাবেন আপনাদের শরীরে। আর বিশেষ ভাবে যদি বলা হয় তাহলে কিন্তু এই প্রাকৃতিক উপাদান এর কোন বিকল্প নেই আমাদের শরীরের জন্য।

পেটের রোগ নিরাময়ে করতে সাহায্য করে: আমাদের পেটে যদি কোন সমস্যা থাকে, তাহলে সেটাকে নিরাময় করার জন্য থানকুনি পাতা কিন্তু অনেক কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক উপাদান। আপনারা যদি থানকুনি পাতা খান তাহলে কিন্তু যে কোনো ধরনের পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন বা বেঁচে যাবেন। থানকুনি পাতা হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি করার জন্য ও অনেক সাহায্য করে থাকে। পেট খারাপ যদি আপনাদের হয়ে থাকে, তাহলে কিন্তু এই থানকুনি পাতা যদি খান তাহলে আপনাদের পেটের অসুখ ভালো হয়ে যাবে। থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা অনেক আস্তে আস্তে সব জানতে পারবেন আমাদের আজকের এই আলোচনায়।

ঘুমের সমস্যা থাকলে কার্যকরী: আপনাদের যদি রাতের বেলায় ঘুম না আসে তাহলে কিন্তু আপনারা সে ক্ষেত্রে থানকুনি পাতা খেতে পারেন। থানকুনি পাতার ভিতরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান স্ট্রেস অথবা মানসিক চাপের কমিয়ে দেওয়ার জন্য সহায়তা করে। আর এর ফলে কিন্তু আপনারা ঘুম না আসার সময় অনায়াসেই মুক্তি পেয়ে যাবেন।

মস্তিষ্কের বিকাশে কাজ করে: থানকুনি পাতা মস্তিষ্কের বিকাশ করার জন্য অনেক উপকারী একটা পাতা। থানকুনি পাতা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার জন্য অনেক সাহায্য করে। আর তাছাড়া ও বর্তমানে এই থানকুনি পাতার ভিতরে রয়েছে অনেক বেশি পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড। আর এর ভিতরে থাকা অ্যালঝাইমার অথবা ডিমেনশিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা কমিয়ে দিতে থাকে।

স্ট্রেচ মার্ক কমায়: অনেক গবেষনা করে দেখা গিয়েছে যে, থানকুনি পাতা স্ট্রেচ মার্ক কমিয়ে দিতে অনেক সাহায্য করে। আবার এছাড়াও অনেকের মতে, থানকুনি পাতায় ভিতরে থাকা টারপিনয়েড একজন মানুষের শরীরে কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে দিতে পারে। এটা নতুন ভাবে স্ট্রেচ মার্ক তৈরি হওয়ার জন্য বাধা দিতে পারে।
ক্ষতের চিকিৎসা অনেক ভালভাবে কাজ করে থাকে: (থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা)

আপনাদের শরীরের ভেতরে কোন জায়গায় যদি কেটে যায় বা কোন জায়গায় পড়ে গিয়ে যদি সেখান থেকে রক্ত বের হতে থাকে। তাহলে সেক্ষেত্রে আপনারা কিন্তু এই থানকুনি পাতা যদি সেই জায়গায় রস বের করে আপনাদের ক্ষতস্থানে লাগিয়ে নেন তাহলে কিন্তু আপনাদের রক্ত পড়া কমে যাবে। কারণ থানকুনি পাতার ভিতরে রয়েছে Saponins নামের এক ধরনের উপাদান যেটা ক্ষতস্থানের রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দিয়ে থাকে। আর যার ফলে দেখা যায় যে, কোন জায়গায় যদি কেটে যায় আমাদের শরীরে তাহলে সেই জায়গায় থানকুনি পাতার রস লাগালে সেই জায়গাটায় শুকিয়ে যাওয়ার জন্য খুব বেশি সময় লাগে না। অনেক কম সময়ের ভিতর শুকিয়ে যায় ক্ষতস্থানে কোন ধরনের সংক্রমণ হওয়ার বা কোন প্রকার সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম পরিমাণে থাকে।

থানকুনি পাতা

স্টোমাক আলসারের মতো রোগ কাছে আসতে দেয় না: Asiaticoside নামের এক প্রকারের উপাদান রয়েছে থানকুনি পাতার ভিতরে, আর যেটা আমাদের হজম ক্ষমতা উন্নতি ঘটিয়ে থাকে। আর তার সাথে স্টমাক আলসারের মতো রোগের প্রকোপ কমিয়ে দেওয়ার জন্য ও বিশেষভাবে ভূমিকা পালন করে। আর শুধু তাই না,পেট খারাপ অথবা আমাদের যদি ডায়রিয়ার হয়ে থাকে তাহলে সেই চিকিৎসার জন্য ও কিন্তু অনেক সময় এই পাতাটিকে কাজে লাগিয়ে এই সমস্ত রোগ গুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যায় খুব সহজেই। স্টোমাক আলসার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

যৌবন ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে: আপনারা যদি আপনাদের নিজেদের যৌবন ধরে রাখতে চান। দীর্ঘ সময়ের জন্যে তাহলে সেক্ষেত্রে থানকুনি পাতা আপনাদেরকেও অনেক বেশী সাহায্য করবে। অন্যান্য অনেক উপকারিতা থানকুনি পাতার ভিতরে রয়েছে এবং এর সাথে সাথে কিন্তু আমাদের যৌবন ধরে রাখার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আর এই থানকুনি পাতা। আর তাই আপনারা আপনাদের নিজেদের যৌবন ধরে রাখতে চান। তাহলে এই ক্ষেত্রে আপনারা আপনাদের খাবারের তালিকা থানকুনি পাতা রাখতে পারেন বা প্রতিদিন আপনারা থানকুনি পাতা খেতে পারেন।

চুল পড়া সমস্যা দূর করে : চুল পড়া সমস্যাটা অনেক কমন একটি সমস্যা এবং এই সমস্যাটা কিন্তু দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। আর এখন বর্তমান সময় দেখা যাচ্ছে যে, অনেক ছোট ছোট বাচ্চাদের চুল পড়ে যাচ্ছে। গবেষণায় উঠে এসেছে প্রতি সপ্তাহে অত্যন্ত কম করে হলে ও ৩-৪ বার থানকুনির পাতা যদি খাওয়া যায়। তাহলে আমাদের মাথার ত্বকের স্কাল্পের মধ্যে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে দিতে সাহায্য করবে। চুল পড়া রোধে করনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

আর যার ফলে দেখা যাবে আমাদের মাথার চুল পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে । আর তাই আমাদের চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য এই উদ্ভিজ পাতার শরণাপন্ন হতে হবে। এছাড়া ও আরও অনেক উপকার রয়েছে থানকুনি পাতার সেগুলো আপনারা আর্টিকেল এর ভিতর আস্তে আস্তে জানতে পারবেন আমাদের মূল বিষয় মূলত থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে।

গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা দূর করে : সাধারণ ভাবে আমাদের খাওয়া-দাওয়ার উপরে নির্ভর করে কিন্তু গ্যাস্টিকের যে সকল সমস্যা রয়েছে সেগুলো হয়ে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় যে, আমরা সময়মতো খাবার-দাবার না খাওয়ার কারণে আমাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়ে থাকে। আর আপনাদের যদি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আপনারা আজকে থেকে সকালের খাবারের রুটিন এর তালিকাতে থানকুনি পাতা রাখবেন । থানকুনি পাতা কিন্তু গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমানোর জন্য অনেক সাহায্য করে থাকে থানকুনি পাতার উপকারিতা বলতে গেলে অনেক।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে: আপনারা যদি বেশি পরিমাণ ক্যালরি যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার সাথে সাথে যদি আপনারা থানকুনি পাতা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। তাহলে সেক্ষেত্রে কিন্তু আপনারা আপনাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন।

আর তাছাড়াও কিন্তু থানকুনি পাতা এটি একটি ঔষধি উদ্ভিদ বা ঔষধিপাতা বলতে পারেন এর গুনাগুন বলে শেষ করা যাবে না। আপনারা যদি প্রতিদিন থানকুনি পাতা খান তাহলে কিন্তু আপনাদের ওজন অনেক কমে যাবে। আর আপনাদেরকে কষ্ট করে জিম করা লাগবে না বা খাবারে নিয়ম করে কমিয়ে খাওয়া লাগবে না । থানকুনি পাতা খেলে আসলে আপনাদের এই সকল সমস্যা থেকে দূরে রাখবে। শুধুমাত্র এই থানকুনি পাতা খেলে আপনারা আপনাদের শরীরের ওজন কমিয়ে ফেলতে পারবেন খুব সহজে।
থানকুনি পাতা খাওয়ার কিছু অপকারিতা জানুন
থানকুনি পাতা খেলে অপকারিতা বা ক্ষতি হয় বলতে, আপনারা যদি প্রতিদিন ১ থেকে ২ চামচ করে থানকুনি পাতার রস পান তাহলে সেক্ষেত্রে কোন ক্ষতি আপনাদের হবে না। কিন্তু আপনারা যদি বেশি পরিমাণে থানকুনি পাতার রস খেয়ে ফেলেন। তাহলে কিন্তু আপনাদের শরীরের জন্য অনেক ক্ষতি হবে। কি রকমের ক্ষতি হবে অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে সেটা আমি নিচে বর্ণনা করেছি।

১| আপনাদের পেটের ভিতর মারাত্মকভাবে যন্তনা শুরু হতে পারে।
২| মাথা করতে থাকার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩| চুলকানি আর অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
৪| অনেক সময় দেখতে পারবেন যে হঠাৎ করেই রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো ঘটনা আপনাদের সাথে ঘটতে পারে।
৫| যাঁরা হেপাটাইটিস কিংবা অন্য কোন ও লিভারের সমস্যার ভিতরে ভুগতেছেন তাদের থানকুনি পাতা খাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে কারণ তাদের জন্য থানকুনি পাতা খাওয়া ক্ষতিকর।
৬| আগামী দুই সপ্তাহের ভিতরে যদি আপনাদের কোন অপারেশন হয়ে থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনাদের থানকুনি পাতা না খাওয়াই সবথেকে ভালো হবে।

শেষ কথাঃ
তাহলে আজকে আমাদের এই আর্টিকেলের ভিতরে আপনাদের সাথে আমি থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করলাম । আশা করি আমাদের আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে অনেক ভাল লেগেছে ।

এরকম এর বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথে। আবার আপনাদের সাথে আলোচনা করা হবে অন্য কোনো বিষয় বা অন্য কোন টপিক নিয়ে সেই পর্যন্ত সকলে ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ।

আরো পড়ুনঃ

Easy Teching

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Reply