গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদন

গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদন, মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন

গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদন

গর্ভকালীন ভাতা বা মাতৃকালীন ভাতা বলতে বুঝায় একজন মেয়ে যখন গর্ভধারণ করে তখন সরকার থেকে তাকে কিছু অনুদান দেওয়া হয়। মূলত এই অনুদান এই হচ্ছে গর্ভকালীন ভাতা। গর্ভকালীন ভাতা চাইলে যে কেউ পাবে না এটা একান্তই যারা দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। অর্থাৎ একদম গরিব গর্ভবতী মায়েদের জন্য এই ভাতা সরকার থেকে দিয়ে থাকে।

অনেকেই হয়তো ভেবে থাকেন যে কেউ এই ভাতা পেতে পারে অর্থাৎ যে কোন গর্ভবতী মা যদি অনলাইনে আবেদন করে তাহলেই ভাতা পেয়ে যাবে। এটা একদম ভ্রান্ত ধারণা। কারণ আবেদন করলেই কেউ সরাসরি ভাতা পাবে না আবেদন করার পর সেটা সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত গর্ভবতী মায়েদের কে ভাতা দেওয়া হয়ে থাকে।

গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদন এর মাধ্যমে খুব সহজে করা যায়। চলুন আমরা এবার জেনে নেবো গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদন করার সঠিক নিয়ম গুলো সম্পর্কে।

[irp posts=”3509″ ]

গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদনের নিয়ম

গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদন এর কিছু সঠিক নিয়ম আছে এ নিয়মগুলো অনুসরণ করে যদি একজন হত দরিদ্র গর্ভবতী মা চলুন জেনে নেই নিয়মগুলো

ধাপ ১ – অনলাইন আবেদন করার জন্য প্রথমে আপনাকে মোবাইল অথবা কম্পিউটারে ব্রাউজার ওপেন করতে হবে এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। আপনাদের সুবিধার্থে লিংকটি শেয়ার করা হলো http://mowca.gov.bd/ 

ধাপ ২ – লিংকটিতে প্রবেশ করার পর “আবেদন করুন” নামের একটি অপশন আসবে। আপনারা সরাসরি আবেদন করুন অপশনে ক্লিক করবেন।

ধাপ ৩ – আবেদন করুন অপশনে ক্লিক করার পর নিচের চিত্রের ন্যায় একটি আবেদন ফরম আসবে। এই ফরমটি তে আপনার যাবতীয় তথ্য গুলো সঠিক ভাবে ফিলাপ করে নেবেন।

গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদন

ধাপ ৪ – ফর্মটিতে প্রথম যে অপশন টি আছে সেটি হচ্ছে অর্থ বছর। অর্থাৎ আপনি কোন অর্থ বছরের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাচ্ছেন প্রথমে সে অর্থ বছর সিলেক্ট করে নেবেন।

ধাপ ৫ – তারপর আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার দিতে হবে। এরপর জন্ম তারিখ, নাম, পিতার নাম, মাতার নাম এভাবে একে একে নির্ভুল ভাবে সব তথ্য গুলো দিতে হবে।

গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদন

ধাপ ৬ – বর্তমান ঠিকানা এবং স্থানীয় ঠিকানা অর্থাৎ আপনি বর্তমানে কোথায় থাকেন এবং আপনার স্থানীয় ঠিকানা কোথায় তার সঠিক বিবরণ দিতে হবে। ঠিকানা তথ্য দেওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার এটি খুব সাবধানে এবং সঠিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

আপনি বর্তমানে যেখানে আছেন বর্তমান ঠিকানার অপশনে সেই ঠিকানাই দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তাহলে যদি কোন কারণে আপনার তথ্য যাচাই করতে চায় তাহলে তথ্য যাচাই করার জন্য বিষয়টি সুবিধা হবে। আর যদি ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন তাহলে দেখা যাবে আপনার ভুল ঠিকানা দেওয়ার কারনে ভাতা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন।

f

ধাপ ৮ – উপরের চিত্রটিতে আর্থ-সামাজিক তথ্য গুলো সঠিকভাবে পূরণ করবেন এবং

ধাপ ৯ – পেমেন্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে মূলত আপনি যে ভাতা সুবিধা পাবেন তা কোন মাধ্যমে নেবেন তা সিলেক্ট করে দেবেন। অর্থাৎ ব্যাংক এ ভাতা নেবেন নাকি মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমে। যদি আপনি মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে নিতে চান তাহলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অনেকগুলো সেবা আছে যেমন বিকাশ , রকেট , সিওর ক্যাশ, উপায় ও নগদ এই অপশন গুলোর মধ্যে যেটি আপনার জন্য সুবিধা হবে সে অপশনটি সিলেক্ট করে দেবেন।

গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদন

ধাপ ১০ –  শেষে যে অপশন টি আছে সেটি হচ্ছে ছবি সংযুক্তি এবং স্বাক্ষর। ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোড করে দেওয়ার পর আপনার আবেদন প্রক্রিয়া টি পুরোপুরি সম্পন্ন হবে। সাবমিট বাটনে ক্লিক করার আগে আপনার তথ্যগুলো আবার যাচাই করে নেবেন। তথ্য যাচাই করা শেষ হলে সাবমিট বাটনে ক্লিক করে নিবেন।

এভাবেই খুব সহজে গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদন করতে পারবেন।

গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদনের যোগ্যতা

একজন গর্ভবতী মায়ের যোগ্যতা এবং অবস্থা বিবেচনা করে গর্ভবতী ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়। যোগ্যতা গুলো হচ্ছে

  • প্রথম গর্ভধারণ অথবা দ্বিতীয় গর্ভধারণের কালে (যেকোন একবার)।
  • বয়স কমপক্ষে 20 বছর বা তার উর্ধে থাকতে হবে।
  • মোট মাসিক আয় দুই হাজার টাকার নিচে। অর্থাৎ গর্ভবতী মায়ের যদি মাসিক আয় দুই হাজার টাকার নিচে থাকে তাহলে তিনি গর্ভবতী ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবে।
  • দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীরা এই ভাতার জন্য অগ্রাধিকার পাবেন।
  • কেবল বসতবাড়ি আছে বা অন্য জায়গায় বসবাস করে আসছে। এরকম গর্ভবতী মায়েরা ভাতা সুবিধা পাবে।
  • একজন ভোগকারী জীবনে একবার (দুই বছর) ভাতা সুবিধা পাবেন।
  • কোন কারনে বাচ্চা গর্ভপাত হলে যদি সে পুনরায় গর্ভধারণ করে তাহলে আবার ভাতা প্রাপ্ত হবে।

গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার নিয়ম

গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার কিছু নিয়ম আছে এ নিয়মগুলো হচ্ছে

  • গর্ভবতী মায়ের মেডিকেল রিপোর্ট অর্থাৎ যিনি ভাতার জন্য আবেদন করবেন তিনি গর্ভবতী কিনা তার একটি প্রমাণ স্বরূপ মেডিকেল রিপোর্ট।
  • গর্ভবতী মায়ের জাতীয় পরিচয় পত্র।

এই প্রমাণগুলোর ভিত্তিতে একজন গর্ভবতী মা ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর অথবা পৌরসভা আবেদন করার মাধ্যমে ভাতা পেয়ে থাকে। তবে এখন অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে ভাতা সুবিধা পাওয়ার জন্য উপযুক্ত গর্ভবতী মায়েদের কে খুব সহজে গর্ভবতী ভাতা প্রদান করছে।

 

Growth allowance কত টাকা 2023

অর্থের অভাবে যাতে একটি শিশুর মানসিক ও শারীরিক ভাবে বেড়ে উঠতে কোন সমস্যা না হয় সে জন্য সরকার গর্ভবতী মায়েদের জন্য Growth allowance ব্যবস্থা চালু রেখেছেন। একজন গর্ভবতী মা গর্ভবতী ভাতা প্রতি মাসে 800 টাকা করে পেয়ে থাকেন।

তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে গর্ভবতী ভাতা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সেটা উপজেলা পরিষদ থেকে জেনে নিতে পারবেন। অথবা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেও সরাসরি দেখে নিতে পারবেন।

মাতৃকালীন ভাতার আবেদন

মাতৃকালীন ভাতা প্রদান কর্মসূচি শুরু করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যা প্রায় 426 টির মত উপজেলায় এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই ভাতা মূলত একজন মা প্রথম অথবা দ্বিতীয় সন্তানের যেকোনো একটি সন্তানের জন্য এই ভাতা সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

মাতৃকালীন ভাতার আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজে করা যায়। উপরে উল্লেখিত গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদন করার নিয়ম এর মত একি প্রক্রিয়ায় আপনি মাতৃকালীন ভাতা আবেদন ফরম পূরণ করে নিতে পারবেন। সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করে যদি আপনি ভাতা প্রাপ্তির জন্য উপযুক্ত হন তাহলে আপনাকে ভাতা প্রদান করা হবে।

মন্তব্য

আজকে আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করেছি গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদন করার নিয়ম গুলো সম্পর্কে। সেইসাথে গর্ভবতী ভাতা অনলাইনে আবেদন করার যোগ্যতা সম্পর্কে।তাছাড়াও গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার নিয়ম ও গর্ভবতী ভাতা কত টাকা এবং মাতৃকালীন ভাতা আবেদন প্রক্রিয়া গুলো সম্পর্কে।

আজকের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাদের বন্ধু অথবা প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আর্টিকেলটি সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমরা খুব দ্রুত আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

[irp posts=”3509″ ]

Easy Teching

ইজি টেকিং - একটি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম। এখানে বাংলা ভাষায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জানা-অজানা তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলা ভাষায় সবার মাঝে সঠিক তথ্য পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Reply